Tag: রাত

  • কলিজা

    ণ্যা কত ঘুমাবা আর?
    একলা যে দম বন্ধ হয়ে আসে!
    দিবা-রাতি একাকার হয়ে ওঠে
    তুমি যে নাই পাশে।

    লিখবো বলে মহা কাব্য
    কলম নিয়েছি হাতে,
    কলম তো আর চলে না কণ্যা,
    তোমার ছোঁয়া যে নেই তাতে।

    জানতে যদি কষ্ট কত তোমায়
    ছাড়া একলা বেঁচে থাকা,
    ভাবতে না আর টিকেট কত টাকা!
    সিট আছে নি ফাঁকা।

  • রাতের আঁধার

    সখি, দিনের আলোর মতো রাতের আঁধারও সত্য,

    তবু আমরা কেন দিনের আলোকেই কেবল সত্যি মনে করি?

    #সখি #রাত #আঁধার #দিন #আলো #সত্য

  • গৃহকুট

    যে আমাকে বোঝেনি কখনো,

    যে আমাকে কোন নাম দেয়নি,

    তার ভালোবাসা তো গৃহে পোষা রাতের বৃক্ষের মতো।

    যে অক্সিজেন দেয়ার বদলে নেয়।।

  • তোমার প্রেমে

    তোমার প্রেমে হাবুডুবু,
    তোমার প্রেমে ওড়া।
    তোমার প্রেমে ভেঙ্গেচুড়ে
    আবার নিজেকে গড়া।
    
    তোমার প্রেমে সকাল-দুপুর
    তোমার প্রেমে রাত,
    তোমার প্রেমে উপোষ থাকা-
    থালা ভর্তি ভাত।
    
    তোমার প্রেমে হিজিবিজি
    তোমার প্রেমে অংক
    তোমার প্রেমেই ফকফকা সব
    তোমার প্রেমেই অন্ধ।
    
    #প্রেম #হাবুডুবু #ওড়া #গড়া #সকাল #দুপুর #রাত #উপোষ #থালা #ভাত #হিজিবিজি #অংক #অন্ধ
  • বঙ্গভূমি

    হৃদয়ের গহীনে-
    অতীব যতনে,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    অ থেকে চন্দ্রবিন্দু-
    শুণ্য থেকে অসীম সিন্ধু,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    আদি থেকে অন্ত-
    সীমা থেকে দিগন্ত,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    ভোরের আলোয়-
    রাতের কালোয়,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    নজরুলের কাব্যে-
    জয়নুলের চিত্রে,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

  • স্বপ্ন

    জয়ার চোখ দুটি লাল,
    একটুও ঘুম হয় নি কাল;
    সারাটা রাত পাশে ছিল কেউ।
    স্বপ্নে আরও কত কি হয়!
    আকাশে ভাসা যায়,
    হাত ধরে পাড়ি দেয়া যায় সহস্র কঠিন ঢেউ।

  • মায়ের কোন পাপ নেই

    কোন এক চাঁদ রাতের ঘটনা, নিয়মিত যে দোকান থেকে সদাই কিনি সেখানে সদাই কিনছি।

    ভাই-বোন এসেছে মায়ের সাথে সেমাই কিনবে, কিন্তু মেয়েটা বায়না ধরেছে আইসক্রিম খাবে।

    মায়ের মোট বাজেটের সমান আইসক্রিমের দাম!

    মা – আমার কাছে তো আজ টাকা নাই, ঈদের দিন টাকা যোগাড় করে আইসক্রিম কিনে দিব।

    মায়ের মিথ্যা কথাটা মেয়েটা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়ে চলে যাচ্ছিল, আমি ফ্রিজ থেকে একটা আইসক্রিম বের করে মেয়েটাকে দিয়ে বললাম দু’ ভাই-বোন মিলে খেয়ে নেয় যেন।

    মা হাতের টাকাটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলে কিছুই বললাম না, আমার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

    আমি জেনেছি শুধু এই,
    মিথ্যা বলা মহা পাপ,
    মায়ের কোন পাপ নেই।

  • চল ভাগি

    বৈশাখের এই পহেলা রাতে চল ভাগি,
    একটু পরেই চাঁদ উঠবে, চাঁদের সাথে রাত জাগি।

  • মিথ্যে গল্প

    ভালবাসা চাইনাকো আর ভালবাসতে চাইনা,
    তোমার জন্য একটুক্ষন ও রাত জাগিতে চাইনা।
    উপোষ করে তোমার জন্য শুভ কামনা,
    এখন আমার ভিষণ ক্ষিধে উপোষ পারিনা।

    হিঁদুর ছেলে নইকো আমি মন্দিরে যাই তবু,
    ঢের হয়েছে এমনটা, আর হবেনা কভূ।

    গঙ্গার জলে কত যে পুজোয় ঢেলেছি জবা ফুল,
    আজ এসেনা বুঝলাম আমি সব হয়েছে ভুল।

    হিঁদুর ঘরে যায়না যাওয়া, বন্ধ দরজা বেদ’এ,
    সব দরজা বন্ধ এখন কি লাভ হবে কেঁদে।

    তাই কাঁদিনা, রাত জাগিনা, বাসিনা তোমায় ভাল,
    সন্ধ্যা হলো ঠাকুর ঘরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালো।

    মসজিদে যাই আযান হলো, নামাজ পড়ি গিয়ে,
    তোমায় ভুলে থাকতে চাই আমার আমি নিয়ে।

  • মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প

    আজ তোমাদের একজন মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প শোনাব,
    সে অনেক বছর আগের কথা, এক ভরা পূর্ণিমা রাতে আমি আর সে এক নদীর ধারে বসে গল্প করছি।
    গল্প করছি বলাটা ভুল হবে, পূর্ণিমায় জলে জোয়ার আসে, সে জোয়ারের জলে চাঁদ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিক।
    তার মুখে জলের তরঙ্গ, আমি সেই তরঙ্গে নৌকা বাইছি আর তার গল্প শুনছি।
    আমার গল্প জুড়ে যেমন তার কথা বলছি, তেমনি তার গল্প জুড়ে ছিল স্বর্গীয় দাদা ঠাকুর। আমার খুব মনে আছে সে বলছিল রোজ রাতে দাদা তার সাথে দেখা করেন, অথচ দাদার সৎকারের দিন আমি ছিলাম। দূর থেকে দেখেছি, কাছে যাওয়ার মত অতটা ভাল তখনো বেসে উঠতে পারি নি।
    আগেই বলেছি চারিদিক পূর্ণিমায় ভরপুর, কিন্তু হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে আসে। প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়, যেন ঈস্রাফিলের সিঙ্গায় হুঙ্কার বেজে উঠেছে, এই বুঝি শেষ হলো দুনিয়ার সব খেলা।
    তান্ডব শেষ হতে হতে সকাল হয়ে গেছে, ছিলাম নদীর ধারে এসে পড়েছি এক জন কোলাহলে। কিন্তু এই কোলাহলের ভিতর তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, তন্নতন্ন খুঁজেও পাই নি আর।
    তারপর গেছে অনেক বছর, কত শত নারীর ঠোঁটের হাসিতে বিক্রী করেছি হৃদয়ের জমিন, তা হিসেব করে বলা যাবে না; দুনিয়ার নিয়মে ভুলে গেছি তাকে।
    কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মাঝ রাতে যখন জলের তেষ্টা পায়, ঘুমের ঘোরে জল চাইতেই সে ত্রিপয়া থেকে গ্লাসটা তুলে দেয়, আমি জল পান করে আবার শুয়ে পড়ি।
    বা কখনো বই পড়তে পড়তে অগোছালো ভাবে ঘুমিয়ে গেলে সে ঠিকঠাক বালিশে মাথাটা পৌঁছে দেয়, চাদরটা গায়ে তুলে দেয়। আমি ঘুমের ঘোরেই তার হাতের স্পর্শ টের পাই, নিশ্বাস এসে কানে সুড়সুড়ি দেয়।
    তারপর ঠিক রাত তিনটায়, সেই রাতের দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে। আমার স্পষ্ট মনে আছে সে রাতের ঝড়টা শুরু হয়েছিল ঠিক তিনটায়, পরে জেনেছি সেদিনের ইত্তেফাকের ৪ নম্বর পাতার প্রথম কলামে।
    হাতড়ে চশমাটা ঠিক ত্রিপয়ার উপর পাই, অথচ ঘুমাবার সময় আমি পাশের বালিশের উপর রেখেছিলাম ওটাকে, জলের গ্লাসটাও ঠিকঠাক শুণ্য।
    আজকাল আমি অনেকটা দ্রুত শুয়ে পড়ি, যদি তারে আরেকটু কাছে পাই!