Tag: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  • জাত-জালিয়াত

    জাতে উঠতে ধর্ম ছাইড়া হইলাম মুনাফেক,
    ওঠার পরে শুনি লালন কয়-
    জাত-পাত সব ফেক!

    নজরুল নামের এক হারামজাদা
    আমারে কয় বজ্জাত!
    একবার হাতের কাছে পাই শালারে,
    ঘুসিয়ে ফেলবো সব দাঁত।

    জাতের কবি জীবন বাবু,
    শুধালাম তারে দাদা –
    জাতের কোনও মন্ত্র দাও না!
    সে’ও দেখি উল্টো পথে-
    আমারে কয় জাত! সে আবার কী রে গাধা!

    এখন মান-সম্মান বাঁচাতে পারেন –
    কেবলই কবি গুরু,
    গুরুও বলেন- জাতে উঠতে চাস! কেমন মগজ রে তোর!
    মানুষ নাকি গরু?

    উপয়ান্তর না পেয়ে রওয়ানা দিলাম-
    কপোতাক্ষের পাড়ে,
    এখন আমাকে একমাত্র মধু বাবুই
    সঠিক দিশা দিতে পারে।

    পাশে বসাইয়া বাবু মাথায় রাখিয়া হাত,
    কহিলেন- বাপু, ভুলিয়া যাও সব মিথ্যা জাত-পাত।

    মেথর কি কুলি, হও না নাপিত-ধোপা,
    তাতে কিছু যায় আসে না রে বোকা।

    আপনারে তুমি ছুঁয়েই দেখো না-
    আপন হাত দিয়া,
    নাম কী তোমার জিজ্ঞেস করে দেখো,
    তোমার নামই উত্তর দিবে হিয়া।

  • আমি কী কী কারনে নজরুলে বিদ্বেষী

    এ দেশে নজরুল বিদ্বেষীর অভাব নেই, কিন্তু নজরুলে বিদ্বেষী হওয়ার কারন কী অনেকে তাই খুঁজে পাচ্ছে না? আসুন দেখে নিন আমি কী কী কারনে নজরুলে বিদ্বেষী।।

    ১) আমি যখন খাঁটি মুসলমানঃ লোকটা কাফের, নইলে কি আর হিন্দু মহিলারে বিয়ে করতো? শ্যামা সঙ্গীত, কৃষ্ণকে নিয়ে গান, নিজের ছেলের নাম কৃষ্ণ রাখত?

    ২) আমি যখন খাঁটি হিন্দুঃ ওরে, মুসলমানের ব্যটা মাকে নিয়ে গান করেতো মায়ের জাতটাই খুইয়ে দিলো গো…

    ৩) আমি যখন নাস্তিকঃ
    খাটি ধর্মান্ধ, ইসলামী সঙ্গীত কি কখনো শান্তি আনতে পারবে? নাকি শ্যামা সঙ্গীত পারবে?
    এসব করে লোকটা নিজের দুই নাম্বারীই প্রমান করেছে।

    ৪) আমি যখন বাংলাদেশীঃ ওতো ভারতীয়, বাংলাদেশেতো ওর বাড়ী না। আমরা হুদাই ওরে নিয়া বাড়াবাড়ি করি ক্যান?

    ৫) আমি যখন ভারতীয়ঃ ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি, আমাদের কী?

    ৬) আমি যখন রবীন্দ্রভক্তঃ ও ছোড়া কি লিখতে পড়তে জানতো নাকি? গুরুজির কয়েকটা লেখা চুরি করে নিজের নামে ছাপিয়েছে।

    ৭) আমি যখন রবীন্দ্র বিদ্বেষীঃ শুনেছি রবীন্দ্রনাথের সাথে নাকি নজরুলের খুব ভাব ছিল, দুইটাই বজ্জ্বাতের হাড্ডি।

    ৮) আমি যখন নারী বিদ্বেষীঃ হালায় কয় কি! পৃথিবীর অর্ধেক নাকি নারী বানাইছে? পাগল না হইলে এমন কথা কেউ কয়?

    ৮) আমি যখন নারীবাদীঃ নার্গিসকে বিয়ে করেও অধীকার দেয় নাই, শুধু তাই না তার অনুমতি ছাড়াই সে প্রমীলাকে বিয়ে করেছে।

    ৯) আমি যখন ব্রিটিশঃ হালায় আমগোর বিরুদ্ধে কবিতা লিখছে, জেলে ভর হালারে।

    ১০) আমি যখন ব্রিটিশ বিদ্বেষীঃ হালায় বৃটিশের পক্ষ হইয়া যুদ্ধ করছে, খাঁটি বৃটিশ।

    ১১) আমি যখন আওয়ামীলীগঃ জামায়াতের এজেন্ট, জামায়াতের সব অনুষ্ঠানেই ওর গান বাজে।

    ১২) আমি যখন বিএনপিঃ জয় বাংলাতো মুজিবরে এই হালায়ই শিখাইছে, হালায় খাঁটি আওয়ামীলীগ।

    ১৩) আমি যখন ধনী শ্রেণির লোকঃ লোকটা দারিদ্র নিয়া লিখছে, আমগোরে নিয়া কিছু লেখে নাই।

    ১৪) আমি যখন দরিদ্রঃ ফাইজলামী করে! দারিদ্র মহান বানাইছে? ঐ একবার আইয়া দেখ আমার ঘরে… কত কষ্টে দিন কাটে।

    ১৫) আমি যখন ছাত্রঃ এই হালারে এতো কঠিন কথা লিখতে কে কইছে? কিচ্ছু বুঝি না।

    ১৬) আমি যখন বাসের হেলপারঃ এই লোকটা “আমরা হেলপারের দল” নামে কোন কবিতা লিখতে পারতো না? তাইলেতো প্রতিদিন ছাত্রদের হাতে মাইর খাইতে হইতো না। ওর কবিতার জোরেইতো ছাত্ররা ৪ টাকার ভাড়া ২ টাকা দেয় আবার মাইরও দেয়।

  • কবিত্ব

    জীবনানন্দ ট্রামকে ভয় পেতেন, ট্রাম দূর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন তিনি।

    অপর দিকে নজরুল আশংকা করতেন বাঁশি থেমে যাওয়ার, রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে প্রায়ই বলতেন “দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীটসের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ”।

    তাদের এই যে আগাম জানতে পারাটাই কবিত্ব।

  • ছেলেবেলা

    সে আমাকে ইনবক্সে বলল– একদিন মাসের শেষে শুণ্য দিয়ে ফেবু চালাচ্ছে, হঠাৎ শুন্য দিয়ে ফেবুতে আর ঢোকা যাচ্ছে না। ঐ দিকে চন্দা ভীষণ রেগে বসে আছে… যেন তুফান উঠেছে, প্রেম ডোবে ডোবে অবস্থা। আবদুল অনেক ঘেঁটেঘুঁটে গ্রামীনফোনের ২টাকায় ১ মেগাবাইটের প্যাকেজটা নিল, কোন মতে চন্দাকে ম্যাসেজ দিল যে শুন্য দিয়ে ফেবু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গল্পটা এত শিগ্গির শেষ হল, আমার পছন্দ হল না। মোবাইলে ২টাকা ব্যালেন্স ছিল, অমনিই বেঁচে গেল প্রেম, এ তো গপ্পই নয়। বারবার বলতে লাগলুম “তার পর’?

    – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর