বর্ষা দেখা হলে বা ফোনে কথা বলার সময় প্রতিদিনই নানা সমস্যার কথা বলে, এসব দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে রিপন একদিন বললো- তোমার কাছে কি পজিটিভ কিছু নাই? এদিকে বউয়ের জ্বালা, আর ঐ দিকে তোমার মুখে সারাক্ষন এতো এতো নেগেটিভ কথা শুনতে আর ভালো লাগছে না।
তারপরের দিন বর্ষা ফোন করে বললো- বেবী, তোমার জন্য একটা পজিটিভ নিউজ আছে। রিপন উৎফুল্ল কন্ঠে বললো- তাই! তা কী সে খুশীর সংবাদটা বেইব? বর্ষা- প্রেগনেন্সি টেস্ট করিয়েছিলাম, রিপোর্ট পজিটিভ আসছে 🥰💃.
পজিটিভ নিউজ পেয়ে তো রিপন এর মাথা নষ্ট, এদিকে বউয়ের সামনে সে নিষ্পাপ, ভোলভালা মানুষ। এখন যদি এসব ফাঁস হয় তাহলে তার কপালে সত্যিই দুঃখ আছে, বউ বাচ্চাদের নিয়ে নির্ঘাৎ বাপের বাড়ী চলে যাবে। তড়িঘড়ি করে বললো তুমি কোথায় আছো, আমি এক্ষুনি দেখা করতে চাই। দেখা হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষন আলাপের পর বর্ষা বললো- বাবু, শোনো, আরো একটা পজিটিভ নিউজ আছে। রিপন – আবার পজিটিভ নিউজ! বর্ষা – এই দেখো, এখনই ম্যাসেজ আসলো, আমি কোভিড পজিটিভ। রিপন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলো।
সেদিন আর তাদের মধ্যে কোন কথা হয়নি, রিপন বাসায় গিয়ে ফোন অফ করে ঝিম মেরে বসে ছিলো। বউ-বাচ্চার দিকেও একবার ফিরে তাকায় নি, ভিতরে তার ধরা খেয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করছিলো।
পরদিন সকালে ফোন খুলে দেখে বর্ষা একটা মেডিকেল রিপোর্ট এর ছবি তুলে পাঠাইছে। সাথে বর্ষা লিখেছে- বাবু, আরো একটা পজিটিভ নিউজ। আমাদের দু’জনেরই HIV পজিটিভ।
মানুষ হতে চাই নি কখনো, তবু ঈশ্বর ও রমণীর ষড়যন্ত্রে এ মনুষ্য জনম। তোদের এ মনুষ্য শহরে আমি বড়ই বেমানান, তাই ঈশ্বরের আদালতে বিচার চাই- ঈশ্বর ও রমণীর। অথবা পুনঃ জনম চাই- সাদা বক বা খেক শেয়াল হয়ে।।
প্রত্যেকটা মানুষ চায় গল্পের শেষটা হোক আনন্দময়…
কিন্তু মিলনেই কি গল্প শেষ হয় কখনো?
মানুষ মরণশীল, তাই আমার কথাটি বেদবাক্যের মত মেনে নিন…
“প্রত্যেকটা গল্পের শেষ বিরহেই”।
বটের মতন বৃহৎ গাছে/শুধুই ফলে ক্ষুদ্র ফল আনারস আর কুমড়া, কাঁকুড়/ক্ষুদ্র গাছেই হয় কেবল। তোমরা যাদের ক্ষুদ্র জান/“বাপ তাড়ান মায়ের খেদানো” তাদের মাঝেই মানুষ আছে/ধনীর ঘরে মানুষ নাই, তাদের চাই/মানুষ চাই ॥