Tag: দোকান

  • এই কি সুখ?

    তার নিঃশ্বাস এর মৃদু শব্দও ও খোদা এতো মধুর কেন লাগে?
    তার চলে যাওয়া পথে হেঁটে যাওয়া হ্যাংলা কালো কুকুরটাকেও দেখে শ্রদ্ধা কেন জাগে?

    ও খোদা, এই কি প্রেম?
    ও খোদা এই কি সুখ?

    যে বাচ্চা মেয়েটির থেকে সে গোলাপ কেনে,
    যে দোকান থেকে সে রোজ বাজার করে,
    যে কসাইর থেকে সে মাংস কেনে,
    তাদেরকে আমাার কেন এতো হিংসে হয়?

    ও খোদা, এই কি প্রেম?
    ও খোদা এই কি সুখ?

    যে শহরে সে বসবাস করে,
    যে ব্যায়ামাগারে সে রোজ শরীরচর্চা করে,
    যে রূপচর্চা কেন্দ্রে সে চুল গোছাতে যায়,
    যে সৈকতে সে হাঁটতে ভালোবাসে,
    ও সবই আমার কেন আপন মনে হয়?

    ও খোদা, এই কি প্রেম?
    ও খোদা এই কি সুখ?

  • একটি কাল্পনিক চিঠি চাল-আচালি।

    সভাকবিকে লিখলাম-
    গুরু, পদক দেখালেই কি মুদিওয়ালা তেলের দাম ৮৬ টাকা রাখে? চালের দাম ১০ টাকায় খাচ্ছেন তো?
    নাকি বাজারে গিয়ে আমাদের মতো নিরীহ দোকানিদের গালমন্দ করে শুন্য হাতে ফিরে আসেন?

    উপরোক্ত চিঠিখানার উত্তরে কবি লিখলেন-
    পাছা বিক্রী করে ঢের কামিয়েছি বাছা, চালের দর, তেলের দর হাজার ছাড়ালেও সমস্যা হবে না।

    ফের চিঠিতে কবিকে জানালাম-
    বিক্রয়যোগ্য পাছা নেই গুরু।

    #কবি #সভাকবি #চাল #তেল #পাছা #চিঠি

  • ফেরিওয়ালা

    ভাবছি একটা দোকান দেবো…
    আরে নাহ, হেলাল হাফিজের মত কষ্ট বিক্রী করতে কষ্ট কোথায় পাবো?
    আমি কবিতার ভাঙ্গারী দোকান দেবো…

    ঝুড়িসহ তোমার দরজায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করবো-
    “আছে ভাঙ্গাচুড়া মন, পুরোনো কষ্ট, থেতলানো হৃদয়….?”

    প্রথমে ভিতর থেকে হেঁকে উঠলেও বারবার একই শব্দে বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে
    তুমি তোমার পুরোনো কষ্টগুলো ছুঁড়ে দেবে আমার ভাঙ্গারীর ঝুড়িতে…

    বিনিময়ে আমি তোমাকে দেবো নতুন একটা কবিতা…
    তোমার দেয়া কষ্টের বিপরীতে কবিতাখানি কম মূল্যবান…
    এই অভিযোগে তুমি বলবে-
    “না থাক, বিক্রী করবো না।”

    আমিও তল্পিতল্পা গোছানোর সময় বলবো-
    “ঠিক আছে আরও দুটো লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বলবে-
    “দুই লাইন না, যদি ছয় লাইন হয় তবে চলে”
    আমি আশাহত হয়ে গোছানো শেষ করে যখন ফিরবো
    তখন আবার বলবো-
    “তোমারও কথা থাক, আমারটাও…
    দুই লাইন আর ছয় লাইনের মাঝামাঝি চার লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বিক্রী করতে রাজী হলে, আমি খুশি মনে ফিরে আসার সময় পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখবো
    তোমার চোখে এখনো লোকসানের কষ্ট…

  • রঙ ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রয় হয় না

    গত বছরের ঘটনা বোধহয়, পারফিউম কিনতে একটা দোকানে ঢুকলাম। আনুমানিক কলেজ পড়ুয়া একটা মেয়ে আর তার ছোট বোন দোকানটা চালাচ্ছে, আমি পারফিউম চাইতে ছোট বোনটাকে বললো তার বাবাকে ডেকে আনতে (রাস্তার পাশে বাড়ী, ঘর লাগোয়া দোকান), খানিকবাদে বাবা না এসে মা এলেন, কিছু ডিউডোরেন্ট বের করে দিলে আমি পারফিউম চাইলাম।

    ভদ্রলোক ভিতরে চা খাচ্ছেন, কিছুক্ষন পর আসার পর আমাকে পারফিউম দিলেন, দরদাম মিটিয়ে আমি কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম।

    ভদ্রলোক জানতে চাইলেন আমি আর কিছু নিব কিনা, আমি বললাম-
    না, আর কিছু নেব না, তবে আপনাকে আমার একটা কথা বলার ছিল, কিন্তু আপনি কিভাবে নিবেন বুঝতে সময় নিচ্ছি।

    লোকটা উৎসুক মনে জিজ্ঞেস করলেন কী কথা বলতে চাই, তিনি শুনতে চান।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম- এ’দুটোই তো আপনার মেয়ে, নাহ?
    – হ্যাঁ।
    আমি – বড় মেয়েটাকে আপনার খারাপ লাগে? মেরে ফেলতে ইচ্ছা হয়?
    – কেন?
    – আপনারা ৩ জনই ফর্সা, বড় মেয়েটা শ্যামলা, মনে হয় না সে আপনার জন্য বোঝা?
    – বোঝা হতে যাবে কেন? সন্তান সাদা হোক, কালো হোক, সে সন্তান। সাদা-কালো দিয়ে মানুষ বিচার করা যায় না, আর সন্তান হলে তো প্রশ্নই ওঠে না।
    আমি – তাহলে এই রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলো দোকান থেকে নামিয়ে ফেলুন, আপনি হয়তো খেয়াল করেন নি কখনো, এই ক্রিমগুলো আপনার মেয়ের দিকে তাকিয়ে টিটকারী করে বলে “তুই কালো, তুই কালো।”

    নিজে আপনাদের চেয়ে কালো বলে হয়তো আয়নায় দাঁড়িয়ে লুকিয়ে কাঁদে, আপনি হয়তো তা কখনো জানতেও পারবেন না।

    সাদা-কালো যদি মানুষকে বিচারের বিষয় না হয়ে থাকে তবে সাদা হওয়ার জন্য কোন ক্রিম থাকা অন্যায়।

    কথাগুলো শেষ করে আমি তাকে কিছু বলতে না দিয়ে হনহন করে চলে এসেছি, বেশ কিছুদিন পর আমার এক বন্ধুকে পাঠিয়েছিলাম, বন্ধু আমার গিয়ে ফেয়ারনেস ক্রিম চাইলে লোকটা একটা তাক এর দিকে ইশারা করলেন, সেখানে একটা স্টিকার লাগানো-

    “এখানে রঙ ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রয় হয় না। মানুষকে ভালবাসুন, গায়ের রঙ নয়।”