আমি এক গরীব প্রেমিক রোকসানা,
যার পুষ্টি ঘাটতি পূরণের এক মাত্র উপায়
ছিলো কাটাখালির মাটিতে বেড়ে ওঠা
তাজা শাক-সবজি।
যেদিন থেকে ডাক্তারেরা ধনীদের প্রেসক্রিপশনে
বেশি বেশি শাক-সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিতে লাগলো!
সেদিন থেকেই আমার তোমাকে হারাবার ভয়।
আমি এক গরীব প্রেমিক রোকসানা,
যার পুষ্টি ঘাটতি পূরণের এক মাত্র উপায়
ছিলো কাটাখালির মাটিতে বেড়ে ওঠা
তাজা শাক-সবজি।
যেদিন থেকে ডাক্তারেরা ধনীদের প্রেসক্রিপশনে
বেশি বেশি শাক-সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিতে লাগলো!
সেদিন থেকেই আমার তোমাকে হারাবার ভয়।
এসব রমনীরা আমাদের প্রতিটি মূহৃর্তকে কেড়ে নেয়,
আমাদের চিন্তা-চেতনা-
অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে আস্তকুঁড়ে।
আজ যে ছেলেটা মেধাবী-
কাল সে হয়ে যায় মাদক সেবি,
এভাবেই রমনীরা আমাদের
অনুভূতি গুলো কেড়ে নেয়।
আমাদের হাসি-কান্না।।
অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে গহীন শুণ্যে,
আজ যে ছেলেটা সবচেয়ে সুখী-
কাল সে হয়ে যায় দুঃখ ফেরারী।
যে ছেলেটা ডাক্তার হবে-
সেই হয় তো হয়ে গেলো রফিক আজাদ।
এভাবেই বেড়ে চলে কবিদের ভীড়,
এভাবেই হয়তো আমরা সুনীলদের ভীড়ে মিশে যাই।
ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু…
আপনি আসেন না কেন ডাক্তার বাবু?
জানেন আমি এখন হাঁটতে পারি!
ডান পাঁয়ের ব্যাথাটা যদিও কিঞ্চিত রয়ে গেছে…
আপনি এলে বুঝি তাও সেরে যাবে…
ডাক্তার বাবু, আপনি কোথায় ডাক্তার বাবু?
হতচ্ছাড়ি নার্সের হুল ফোঁটানো ইঞ্জেকশন নিতে বড় কষ্ট হয়…
জানেন! আমি এখন দুটো হাতই নাড়াতে পারি…
বিকেলে যখন বেড থেকে বারান্দায় যাই, তখন মনে হয় ইস!
কেউ যদি হাতটা ধরে নিয়ে যেতো…
আমার চাওয়ার কি কোন দাম নেই ডাক্তার বাবু?
মাঝরাতে যখন সমস্ত হাসপাতাল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন আমি কারো প্রতিক্ষায় রই…
গতরাতে হঠাৎ যখন দরজার পর্দাটা মৃদু কেঁপে উঠলো, পর্দার সাথে আমার হৃদয়ও…
মনে হলো, এই বুঝি শেষ হলো আমার প্রতিক্ষা…
ডাক্তার বাবু, মুহুর্তেই আমার ভুল ভাঙ্গে, যখন আমার মুখে অসহ্য আঘাত করে একরাশ ঠান্ডা হাওয়া…
ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু…
তুমি আসো না কেন ডাক্তার বাবু?
প্রিয়তমেশু হবু ডাক্তার ঝর্ণা,
অনেক বছর হলো তোর সাথে যোগাযোগ নেই, যতবার তোর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছি ততবারই তোর ব্যস্ততার জন্য যোগাযোগ সফল হয় নি।
আমি জানি তোর খুব ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার, সাথে আরও জানি সে ইচ্ছে তোর নিজের না; অন্যের ইচ্ছে বয়ে বেড়াচ্ছিস রোজ।
জানি, বড় কিছু পেতে হলে আমার মত এক অধমকে ভুলে যাওয়া আবশ্যক, বড় ডাক্তার হতে এই অধম ছাড়াও আরও অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়, অথচ দেখ আমি কিছুই ত্যাগ না করেও কত সুখি। আরও বছর চারেক পরে তুই যখন ডাক্তার হ’বি তখন কি সময় হবে? নাহ, তখনও তুই ব্যস্তই থাকবি।
আমাকে দেয়ার মত সময় তোর কোনদিনও হবে না, আমাকে দেয়ার মতও কিছু তোর থাকবে না কোন দিন, তবু আমি তোর প্রতীক্ষায় রই রোজ। কারন আমার রয়েছে অফুরন্ত সময়, আমার বইয়ের ভাজে ভাজে স্বপ্নকে বিক্রয় করতে হয় না, বদ্ধ কোন ঘরের কোনে স্ট্রে ভর্তি করতে হয় না দগ্ধ ছাঁই দিয়ে, রাতের পার্টিতে গা এলিয়ে দিতে হয় না কোন কর্পোরেটের সাথে। আমি রোজ ভোরে উপভোগ করতে পারি সূর্য্যের সোনালী রদ্দুর, রোজ সন্ধ্যায় আড্ডায় কাটিয়ে দিতে পারি এভাবে বছরের পর বছর, রাতের তারাদের সাথে গল্প করে পার করে দেই কত শত চাঁদনী রাত।
জানি এসব তোর জীবনে জুটবে না, সলিল চৌধুরীর গানের শব্দ তোর কানে ঢুকবে না কোনদিন। অথচ কথা ছিলো দু’জনে এক সাথে হুমায়ূনের গল্প পড়বো, নজরুলে কাব্যে জোয়াড় আনবো, ভাষানীর মত লংমার্চ করবো ফারাক্কার প্রতিরোধে।
আজ ওসব অতীত, খুবই আবছা অতীত!
– সাবেক ইঞ্জিনিয়ার জয়