Tag: ঝর্ণা

  • প্রকৃতি ও অনিয়মের গল্প

    আকাশটা ঘোলাটে লাগছে বেশ, বোধহয় বৃষ্টি হবে।
    এ বসন্তে বৃষ্টি হবে ভাবতে কেমন যেন লাগছে!

    বসন্তে বৃষ্টি মানেই প্রকৃতির অনিয়ম, প্রকৃতি যখন অনিয়ম করে তখন তা খুব ভয়ঙ্কর হয়।

    তাই মনে খুব ভয় হচ্ছে, আমার দুঃশ্চিন্তিত চেহারা দেখে ঝর্ণা ভয় পেয়ে ডান বাহুটা আলতো করে জড়িয়ে ধরে বললঃ কি হলো জান? হঠাৎ এমন দুঃশ্চিন্তিত লাগছে কেন তোমাকে?

    আমি বললামঃ কেমন যেন বর্ষা বর্ষা লাগছে না? বসন্তে বর্ষা খুব খারাপ।

    হঠাৎ করেই ঝর্ণা আমার হাত ছিটকে দিয়ে বললঃ আমি এইটুকুই জানতে চেয়েছিলাম, বর্ষাপুর সাথে তোমার কী রিলেশন শুনি?

    উনি তোমার সব ব্যপারে নাক গলান কেন? আর তুমিই বা তাতে বাঁধা দাও না কেন? কই? কি হলো? উত্তর দাও!

    ঝর্ণা বলেই যাচ্ছে আর বলেই যাচ্ছে… আমার কানে তা যেন প্রবেশ করছে নাম আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছি…

    “বসন্তে বর্ষা খুব ভয়ঙ্কর…”

  • পাহাড়, ঝর্ণা, নদী ও সাগরের গল্প

    মেয়েটির নাম নদী,
    পাহাড়কে ধোঁকা দিয়ে
    সে নিজেকে সঁপেছে সাগরের কাছে।
    তারই দুঃখে পাহাড় কেঁদে যায়,
    তোমরা তাকে ঝর্ণা বলো।

  • একলা প্রহর

    ঝর্ণাঃ- কি হলো? ক্লাস করাচ্ছিতো………
    জয়ঃ- ফিরবে কখন? একা একা ভাল লাগে না……….

  • সাধ

    সাধ ছিল একবার তোমায় ছুঁয়ে দেখব……
    অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির নেয় কৃষ্ণকায় চোখ……
    ধনুকের মত বাঁকা হাসি……
    আর মায়াময় নগ্ন হাত……

    সাধ ছিল একবার তোমার স্বাদ নেব…….
    মুক্ত দানার মত চোখের নোনা জল…..
    বুকের মৃদু ঘামের গন্ধ……
    আর ভুবন ভোলানো ঠোঁট……..

    সাধ ছিল একবার তোমায় স্বপ্নে দেখব……
    বিশাল সমুদ্রের পাড়ে শুধু তুমি আর আমি…..
    অসীম আকাশে উড়ন্ত চিল…..
    আর ঝর্ণার জলে চপলা হরিণী…….

  • তালাশ

    যদি কোনদিন রেল লাইন কিংবা-
    কোন নদীতে পাওয়া যায় আমার লাশ,
    নুর হোসেন না, তোরা ঝর্ণাকে করিস তালাশ।

  • হবু ডাক্তার ঝর্ণাকে লেখা অধমের চিঠি

    প্রিয়তমেশু হবু ডাক্তার ঝর্ণা,

    অনেক বছর হলো তোর সাথে যোগাযোগ নেই, যতবার তোর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছি ততবারই তোর ব্যস্ততার জন্য যোগাযোগ সফল হয় নি।
    আমি জানি তোর খুব ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার, সাথে আরও জানি সে ইচ্ছে তোর নিজের না; অন্যের ইচ্ছে বয়ে বেড়াচ্ছিস রোজ।
    জানি, বড় কিছু পেতে হলে আমার মত এক অধমকে ভুলে যাওয়া আবশ্যক, বড় ডাক্তার হতে এই অধম ছাড়াও আরও অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়, অথচ দেখ আমি কিছুই ত্যাগ না করেও কত সুখি। আরও বছর চারেক পরে তুই যখন ডাক্তার হ’বি তখন কি সময় হবে? নাহ, তখনও তুই ব্যস্তই থাকবি।

    আমাকে দেয়ার মত সময় তোর কোনদিনও হবে না, আমাকে দেয়ার মতও কিছু তোর থাকবে না কোন দিন, তবু আমি তোর প্রতীক্ষায় রই রোজ। কারন আমার রয়েছে অফুরন্ত সময়, আমার বইয়ের ভাজে ভাজে স্বপ্নকে বিক্রয় করতে হয় না, বদ্ধ কোন ঘরের কোনে স্ট্রে ভর্তি করতে হয় না দগ্ধ ছাঁই দিয়ে, রাতের পার্টিতে গা এলিয়ে দিতে হয় না কোন কর্পোরেটের সাথে। আমি রোজ ভোরে উপভোগ করতে পারি সূর্য্যের সোনালী রদ্দুর, রোজ সন্ধ্যায় আড্ডায় কাটিয়ে দিতে পারি এভাবে বছরের পর বছর, রাতের তারাদের সাথে গল্প করে পার করে দেই কত শত চাঁদনী রাত।

    জানি এসব তোর জীবনে জুটবে না, সলিল চৌধুরীর গানের শব্দ তোর কানে ঢুকবে না কোনদিন। অথচ কথা ছিলো দু’জনে এক সাথে হুমায়ূনের গল্প পড়বো, নজরুলে কাব্যে জোয়াড় আনবো, ভাষানীর মত লংমার্চ করবো ফারাক্কার প্রতিরোধে।

    আজ ওসব অতীত, খুবই আবছা অতীত!

    – সাবেক ইঞ্জিনিয়ার জয়