Tag: ছেলেবেলা

  • আছি? আছি? আছি?

    ছেলেবেলায় খেলাধুলা খুব কম করেছি, পাট কাঠির মত শুকনো হওয়ার ফলে খেলাধুলায় খুব বেশী সামর্থ্যবানও ছিলাম না। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠতাম, অনেকবার মাঠে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা আছে, টেবিলের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙ্গা রেডিও, টুইনওয়ান, টেলিভিশন, লাইট ইত্যাদিই ছিল প্রিয় খেলার সাথী।

    সিগারেটের প্যাকেটে থাকা এ্যালুমিনিয়ামের কাগজ ছিল এক সময় সপ্তম আশ্চর্য্য, রাস্তায় রাস্তায় তাই খুঁজতাম। পেন্সিল ব্যটারী, বাতি আর সিগারেটের সেই কাগজ! নিজেকে বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী মনে হতো।

    হান্নান চাচার ওয়ার্কশপ থেকে বাবা একটা অক্ষয় রিক্সা বানিয়ে দিয়েছিলেন দুই সিটওয়ালা। বন্ধুদের সাথে চ্যালেঞ্জ ধরে রিক্সা চালাতাম একই দাগে বারবার।

    মেয়েরা থাকলে খেলাগুলো হয়ে উঠতো ওদের অনুকূলে, গোল্লাছুট, বউচি, কানামাছি, এক্কাদোক্কা, ইত্যাদি।

    আরেকটা খেলার নাম মনে করতে পারছি না, যেটাতে একজনের চোখ হাত দিয়ে বন্ধ রেখে নিজ দলের খেলোয়াড়দের ছদ্মনাম ডাকা হতো এভাবে- আয়রে আমার টিয়া।
    তখন টিয়া এসে চোখ বন্ধ যার তার কপালে টোকা দিয়ে যেত।

    তো এক্কাদোক্কা খেলার অনেকগুলো ধরন আছে (অঞ্চলভেদে) আমরা দুটো খেলতাম, তার মধ্যে একটি ছিল এমন-
    আকাশের দিকে তাকিয়ে খেলোয়াড় ঘরগুলো পার হতো আর বলতো “আছি? আছি? আছি?”

    জীবনের এই সময়টাতে এসে যেন এক্কাদোক্কা খেলছি সময়ের সাথে, আকাশের দিকে তাকিয়ে মাটিতে পা ফেলছি আর বারবার জিজ্ঞেস করছি-

    আছি? আছি? আছি?

  • ছেলেবেলা

    সে আমাকে ইনবক্সে বলল– একদিন মাসের শেষে শুণ্য দিয়ে ফেবু চালাচ্ছে, হঠাৎ শুন্য দিয়ে ফেবুতে আর ঢোকা যাচ্ছে না। ঐ দিকে চন্দা ভীষণ রেগে বসে আছে… যেন তুফান উঠেছে, প্রেম ডোবে ডোবে অবস্থা। আবদুল অনেক ঘেঁটেঘুঁটে গ্রামীনফোনের ২টাকায় ১ মেগাবাইটের প্যাকেজটা নিল, কোন মতে চন্দাকে ম্যাসেজ দিল যে শুন্য দিয়ে ফেবু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গল্পটা এত শিগ্গির শেষ হল, আমার পছন্দ হল না। মোবাইলে ২টাকা ব্যালেন্স ছিল, অমনিই বেঁচে গেল প্রেম, এ তো গপ্পই নয়। বারবার বলতে লাগলুম “তার পর’?

    – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর