Tag: কাজী নজরুল ইসলাম

  • গুজব

    বস্তুতঃ বাংলাদেশের কোন জাতীয় কবি নাই, কিন্তু আপনি সারা জীবন জপে এসেছেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
    যেমনটা গত ১২ বছর ধরে গণতন্ত্রের জপ করে আসছেন, আদতে এগুলো সবই গুজব মাত্র।
    বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়া দেখেন।

  • দূরত্ব

    জনাব কাজী নজরুল ইসলাম, দেখে যান আজ থেকে অর্ধশতাধীক বৎসর পূর্বে আপনি যে হিন্দু-মুসলমানকে একত্রিত করতে চেয়েছিলেন তাদের মাঝে আজও মহাকালের দূরত্ব।
    
    #দূরত্ব #কাজীনজরুলইসলাম #বছর #হিন্দু #মুসলমান #মহাকাল
  • জাত-জালিয়াত

    জাতে উঠতে ধর্ম ছাইড়া হইলাম মুনাফেক,
    ওঠার পরে শুনি লালন কয়-
    জাত-পাত সব ফেক!

    নজরুল নামের এক হারামজাদা
    আমারে কয় বজ্জাত!
    একবার হাতের কাছে পাই শালারে,
    ঘুসিয়ে ফেলবো সব দাঁত।

    জাতের কবি জীবন বাবু,
    শুধালাম তারে দাদা –
    জাতের কোনও মন্ত্র দাও না!
    সে’ও দেখি উল্টো পথে-
    আমারে কয় জাত! সে আবার কী রে গাধা!

    এখন মান-সম্মান বাঁচাতে পারেন –
    কেবলই কবি গুরু,
    গুরুও বলেন- জাতে উঠতে চাস! কেমন মগজ রে তোর!
    মানুষ নাকি গরু?

    উপয়ান্তর না পেয়ে রওয়ানা দিলাম-
    কপোতাক্ষের পাড়ে,
    এখন আমাকে একমাত্র মধু বাবুই
    সঠিক দিশা দিতে পারে।

    পাশে বসাইয়া বাবু মাথায় রাখিয়া হাত,
    কহিলেন- বাপু, ভুলিয়া যাও সব মিথ্যা জাত-পাত।

    মেথর কি কুলি, হও না নাপিত-ধোপা,
    তাতে কিছু যায় আসে না রে বোকা।

    আপনারে তুমি ছুঁয়েই দেখো না-
    আপন হাত দিয়া,
    নাম কী তোমার জিজ্ঞেস করে দেখো,
    তোমার নামই উত্তর দিবে হিয়া।

  • বঙ্গভূমি

    হৃদয়ের গহীনে-
    অতীব যতনে,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    অ থেকে চন্দ্রবিন্দু-
    শুণ্য থেকে অসীম সিন্ধু,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    আদি থেকে অন্ত-
    সীমা থেকে দিগন্ত,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    ভোরের আলোয়-
    রাতের কালোয়,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

    নজরুলের কাব্যে-
    জয়নুলের চিত্রে,
    রয়েছো তুমি-
    হে বঙ্গভূমি।

  • আমি কী কী কারনে নজরুলে বিদ্বেষী

    এ দেশে নজরুল বিদ্বেষীর অভাব নেই, কিন্তু নজরুলে বিদ্বেষী হওয়ার কারন কী অনেকে তাই খুঁজে পাচ্ছে না? আসুন দেখে নিন আমি কী কী কারনে নজরুলে বিদ্বেষী।।

    ১) আমি যখন খাঁটি মুসলমানঃ লোকটা কাফের, নইলে কি আর হিন্দু মহিলারে বিয়ে করতো? শ্যামা সঙ্গীত, কৃষ্ণকে নিয়ে গান, নিজের ছেলের নাম কৃষ্ণ রাখত?

    ২) আমি যখন খাঁটি হিন্দুঃ ওরে, মুসলমানের ব্যটা মাকে নিয়ে গান করেতো মায়ের জাতটাই খুইয়ে দিলো গো…

    ৩) আমি যখন নাস্তিকঃ
    খাটি ধর্মান্ধ, ইসলামী সঙ্গীত কি কখনো শান্তি আনতে পারবে? নাকি শ্যামা সঙ্গীত পারবে?
    এসব করে লোকটা নিজের দুই নাম্বারীই প্রমান করেছে।

    ৪) আমি যখন বাংলাদেশীঃ ওতো ভারতীয়, বাংলাদেশেতো ওর বাড়ী না। আমরা হুদাই ওরে নিয়া বাড়াবাড়ি করি ক্যান?

    ৫) আমি যখন ভারতীয়ঃ ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি, আমাদের কী?

    ৬) আমি যখন রবীন্দ্রভক্তঃ ও ছোড়া কি লিখতে পড়তে জানতো নাকি? গুরুজির কয়েকটা লেখা চুরি করে নিজের নামে ছাপিয়েছে।

    ৭) আমি যখন রবীন্দ্র বিদ্বেষীঃ শুনেছি রবীন্দ্রনাথের সাথে নাকি নজরুলের খুব ভাব ছিল, দুইটাই বজ্জ্বাতের হাড্ডি।

    ৮) আমি যখন নারী বিদ্বেষীঃ হালায় কয় কি! পৃথিবীর অর্ধেক নাকি নারী বানাইছে? পাগল না হইলে এমন কথা কেউ কয়?

    ৮) আমি যখন নারীবাদীঃ নার্গিসকে বিয়ে করেও অধীকার দেয় নাই, শুধু তাই না তার অনুমতি ছাড়াই সে প্রমীলাকে বিয়ে করেছে।

    ৯) আমি যখন ব্রিটিশঃ হালায় আমগোর বিরুদ্ধে কবিতা লিখছে, জেলে ভর হালারে।

    ১০) আমি যখন ব্রিটিশ বিদ্বেষীঃ হালায় বৃটিশের পক্ষ হইয়া যুদ্ধ করছে, খাঁটি বৃটিশ।

    ১১) আমি যখন আওয়ামীলীগঃ জামায়াতের এজেন্ট, জামায়াতের সব অনুষ্ঠানেই ওর গান বাজে।

    ১২) আমি যখন বিএনপিঃ জয় বাংলাতো মুজিবরে এই হালায়ই শিখাইছে, হালায় খাঁটি আওয়ামীলীগ।

    ১৩) আমি যখন ধনী শ্রেণির লোকঃ লোকটা দারিদ্র নিয়া লিখছে, আমগোরে নিয়া কিছু লেখে নাই।

    ১৪) আমি যখন দরিদ্রঃ ফাইজলামী করে! দারিদ্র মহান বানাইছে? ঐ একবার আইয়া দেখ আমার ঘরে… কত কষ্টে দিন কাটে।

    ১৫) আমি যখন ছাত্রঃ এই হালারে এতো কঠিন কথা লিখতে কে কইছে? কিচ্ছু বুঝি না।

    ১৬) আমি যখন বাসের হেলপারঃ এই লোকটা “আমরা হেলপারের দল” নামে কোন কবিতা লিখতে পারতো না? তাইলেতো প্রতিদিন ছাত্রদের হাতে মাইর খাইতে হইতো না। ওর কবিতার জোরেইতো ছাত্ররা ৪ টাকার ভাড়া ২ টাকা দেয় আবার মাইরও দেয়।

  • কবিত্ব

    জীবনানন্দ ট্রামকে ভয় পেতেন, ট্রাম দূর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন তিনি।

    অপর দিকে নজরুল আশংকা করতেন বাঁশি থেমে যাওয়ার, রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে প্রায়ই বলতেন “দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীটসের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ”।

    তাদের এই যে আগাম জানতে পারাটাই কবিত্ব।

  • সত্য বলিতে খাড়া আছে ওই শুধু এক শয়তান

    নৌকা উঠছে সড়কে এইটুকু আছে ঠিক,
    যায় না যেনো নরকে হারাইয়া দিক।

    নৌকার সড়কে ওঠা শুভ লক্ষণ না, সড়কে রিক্সা-টেম্পু চলার নিয়ম। নিয়ম ভাঙ্গারও নিয়ম থাকে, যেমন কাজী নজরুল নিয়ম ভাঙ্গার গান গেয়েছিলেন, আবার নজরুলের মত আশরাফ খানও নিয়ম ভাঙ্গার গান গেয়েছিলেন।

    কিন্তু নজরুল শেষাব্ধী দারিদ্রকে মহান বানিয়ে ছেড়েছেন আর আশরাফ আফিম খেয়ে দারিদ্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলে গেছেন ওপারে।

    আশরাফ খানের এই মাঝ পথে থেমে যাওয়ার কারন ছিল তিনি যে নিয়ম ভাঙ্গার গান গেয়েছেন সেই নিয়ম তিনি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নাই।

    আওয়ামীলীগ মওলানাকে অবজ্ঞা করে যে সড়কে নৌকা বাইছে তা আশরাফ আলী খানের মত আত্মহত্যায় সমাপ্ত হবে নাতো?

    “মিথ্যা জগত মিথ্যা মানুষ মিথ্যা সে ভগবান
    সত্য বলিতে খাড়া আছে ওই শুধু এক শয়তান।”

    • কবি আশরাফ আলী খান
  • যদি আর বাঁশী না বাজে

    বিশ্বাস করুন আমি সেলিব্রিটি হতে আসিনি।

    আমি নেতা হতে আসিনি।

    আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।

    সে প্রেম পেলাম না বলে

    আমি এই প্রেমহীন নীরস ফেসবুক থেকে

    নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।

    —– কাজী নজরুল ইসলাম |

  • হবু ডাক্তার ঝর্ণাকে লেখা অধমের চিঠি

    প্রিয়তমেশু হবু ডাক্তার ঝর্ণা,

    অনেক বছর হলো তোর সাথে যোগাযোগ নেই, যতবার তোর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছি ততবারই তোর ব্যস্ততার জন্য যোগাযোগ সফল হয় নি।
    আমি জানি তোর খুব ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার, সাথে আরও জানি সে ইচ্ছে তোর নিজের না; অন্যের ইচ্ছে বয়ে বেড়াচ্ছিস রোজ।
    জানি, বড় কিছু পেতে হলে আমার মত এক অধমকে ভুলে যাওয়া আবশ্যক, বড় ডাক্তার হতে এই অধম ছাড়াও আরও অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়, অথচ দেখ আমি কিছুই ত্যাগ না করেও কত সুখি। আরও বছর চারেক পরে তুই যখন ডাক্তার হ’বি তখন কি সময় হবে? নাহ, তখনও তুই ব্যস্তই থাকবি।

    আমাকে দেয়ার মত সময় তোর কোনদিনও হবে না, আমাকে দেয়ার মতও কিছু তোর থাকবে না কোন দিন, তবু আমি তোর প্রতীক্ষায় রই রোজ। কারন আমার রয়েছে অফুরন্ত সময়, আমার বইয়ের ভাজে ভাজে স্বপ্নকে বিক্রয় করতে হয় না, বদ্ধ কোন ঘরের কোনে স্ট্রে ভর্তি করতে হয় না দগ্ধ ছাঁই দিয়ে, রাতের পার্টিতে গা এলিয়ে দিতে হয় না কোন কর্পোরেটের সাথে। আমি রোজ ভোরে উপভোগ করতে পারি সূর্য্যের সোনালী রদ্দুর, রোজ সন্ধ্যায় আড্ডায় কাটিয়ে দিতে পারি এভাবে বছরের পর বছর, রাতের তারাদের সাথে গল্প করে পার করে দেই কত শত চাঁদনী রাত।

    জানি এসব তোর জীবনে জুটবে না, সলিল চৌধুরীর গানের শব্দ তোর কানে ঢুকবে না কোনদিন। অথচ কথা ছিলো দু’জনে এক সাথে হুমায়ূনের গল্প পড়বো, নজরুলে কাব্যে জোয়াড় আনবো, ভাষানীর মত লংমার্চ করবো ফারাক্কার প্রতিরোধে।

    আজ ওসব অতীত, খুবই আবছা অতীত!

    – সাবেক ইঞ্জিনিয়ার জয়