জীবন হচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলার মতো,
শেষ ঘরে না পৌঁছানো অবধি-
সকল অর্জনই অনিশ্চিত।
জীবন হচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলার মতো,
শেষ ঘরে না পৌঁছানো অবধি-
সকল অর্জনই অনিশ্চিত।
এক্কাদোক্কা খেলার মতো চোখ বন্ধ করে,
আকাশের দিকে মুখ করে,
এক পা এক পা করে তোমার দিকে আগাচ্ছি।
আর নিজেই নিজেকে একটু পর পর জিজ্ঞেস করছি-
আছি?
ছেলেবেলায় খেলাধুলা খুব কম করেছি, পাট কাঠির মত শুকনো হওয়ার ফলে খেলাধুলায় খুব বেশী সামর্থ্যবানও ছিলাম না। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠতাম, অনেকবার মাঠে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা আছে, টেবিলের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙ্গা রেডিও, টুইনওয়ান, টেলিভিশন, লাইট ইত্যাদিই ছিল প্রিয় খেলার সাথী।
সিগারেটের প্যাকেটে থাকা এ্যালুমিনিয়ামের কাগজ ছিল এক সময় সপ্তম আশ্চর্য্য, রাস্তায় রাস্তায় তাই খুঁজতাম। পেন্সিল ব্যটারী, বাতি আর সিগারেটের সেই কাগজ! নিজেকে বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী মনে হতো।
হান্নান চাচার ওয়ার্কশপ থেকে বাবা একটা অক্ষয় রিক্সা বানিয়ে দিয়েছিলেন দুই সিটওয়ালা। বন্ধুদের সাথে চ্যালেঞ্জ ধরে রিক্সা চালাতাম একই দাগে বারবার।
মেয়েরা থাকলে খেলাগুলো হয়ে উঠতো ওদের অনুকূলে, গোল্লাছুট, বউচি, কানামাছি, এক্কাদোক্কা, ইত্যাদি।
আরেকটা খেলার নাম মনে করতে পারছি না, যেটাতে একজনের চোখ হাত দিয়ে বন্ধ রেখে নিজ দলের খেলোয়াড়দের ছদ্মনাম ডাকা হতো এভাবে- আয়রে আমার টিয়া।
তখন টিয়া এসে চোখ বন্ধ যার তার কপালে টোকা দিয়ে যেত।
তো এক্কাদোক্কা খেলার অনেকগুলো ধরন আছে (অঞ্চলভেদে) আমরা দুটো খেলতাম, তার মধ্যে একটি ছিল এমন-
আকাশের দিকে তাকিয়ে খেলোয়াড় ঘরগুলো পার হতো আর বলতো “আছি? আছি? আছি?”
জীবনের এই সময়টাতে এসে যেন এক্কাদোক্কা খেলছি সময়ের সাথে, আকাশের দিকে তাকিয়ে মাটিতে পা ফেলছি আর বারবার জিজ্ঞেস করছি-
আছি? আছি? আছি?