কলম সন্ত্রাসের চেয়ে বড় কোন সন্ত্রাস নাই,
এ দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীরা ব্লগার নামে পরিচিত।
Blog
-
সন্ত্রাস
-
সত্যবাদ
– আবার হবে দেখা সখি বছর কুড়ি পর, আজ তবে যাই?– যাই না, বলো ‘আসি’।– মিথ্যা, যাওয়ার বেলায় মিথ্যা করে আসি বললেও তো আসাটা হয় না তাই না!– অমন করে ভাবছো কেন?– যেমনটা সত্য।– আজকাল তুমি বড্ড সত্যবাদী হয়ে গেছ।– বিদায়ের সত্যটা তো তুমিই বলে দিলে, আমি তো শুধু সেটাকে বয়ে বেড়ানোর প্রাক্টিস করছি মাত্র। -
আনটাইটেলড প্রেম
– এই শোন।
– আমাকে বলছেন?
– হ্যাঁ, তুমি আর ঐ দিকটাতে আসো না কেন?
– কোন দিকে?
– তুমি না আগে রোজ কলোনীতে খেলতে যেতে?
– আপনি জানেন কী করে? আপনার বাসা কলোনীতে?
– ওহ! তুমি আমায় চিনতে পারছো না? রউফ, আমার ভাই।
– ওহ! আপু, স্যরি।
– ধ্যাঁত, রউফ আমার বড়, গুনে গুনে দেড় বছরের বড়।৬ মাস পর –
– তুমি না একটা গাধা।
– আবার কী করলাম!
– না, নতুন করে কিছু করো নাই।
– তবে?
– রউফ আমার ছোট, গুনে গুনে দেড় বছরের ছোট।
– বলো কী আপু!
– একটা থাপ্পড় দিব।
– দাও না, আমি তোমার স্পর্শে হারাই।অতপর বয়সে দেড় বছরের ছোট প্রেমিককে মেয়েটি প্রেম শিখাইতে ব্যস্ত হইল।
-
মিথ্যে গল্প
ভালবাসা চাইনাকো আর ভালবাসতে চাইনা,
তোমার জন্য একটুক্ষন ও রাত জাগিতে চাইনা।
উপোষ করে তোমার জন্য শুভ কামনা,
এখন আমার ভিষণ ক্ষিধে উপোষ পারিনা।হিঁদুর ছেলে নইকো আমি মন্দিরে যাই তবু,
ঢের হয়েছে এমনটা, আর হবেনা কভূ।গঙ্গার জলে কত যে পুজোয় ঢেলেছি জবা ফুল,
আজ এসেনা বুঝলাম আমি সব হয়েছে ভুল।হিঁদুর ঘরে যায়না যাওয়া, বন্ধ দরজা বেদ’এ,
সব দরজা বন্ধ এখন কি লাভ হবে কেঁদে।তাই কাঁদিনা, রাত জাগিনা, বাসিনা তোমায় ভাল,
সন্ধ্যা হলো ঠাকুর ঘরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালো।মসজিদে যাই আযান হলো, নামাজ পড়ি গিয়ে,
তোমায় ভুলে থাকতে চাই আমার আমি নিয়ে। -
পাটকাঠি ও মুটকির গল্প
– এই এই, কী করছিস!– মুখ মুছতেছি, খাওয়ার পর মুখ মোছা সুন্নত।– কই থিকা পাইছোস?– সেদিন এক বড় ভাই বলছে।– তোর ঐ বড় ভাই এটা বলে নাই যে, পর নারীর ওড়নায় মুখ মোছা হারাম?– না রে, ভাই মনে হয় ব্যপারটা বলতে ভুলে গেছিল।– আচ্ছা, নেক্সট টাইম মনে রাখবি।– মনে না থাকলে, আবার যদি মুখ মুছি তখন মনে করাই দিবি, ঠিক আছে?– তোরে নিয়া যে আমি কই যাই!– স্যরি বাবা, আমি তোর সাথে কোথাও যাব না। তুই যে পেটুক! সিঙ্গাড়া নিলাম ৪ খানা, তার মধ্যে তো সাড়ে তিনখানাই তুই খাইলি।– খাইছি ভাল করছি, বেশী বেশী খাই বলেই তো আমি সাস্থ্যবান আর তুই পাটকাঠি।– তুই সাস্থ্যবান নাকি মুটকি?– হ, আমি মুটকি এবার ঠিক আছে? চল দেরী হয়ে যাচ্ছে। -
মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প
আজ তোমাদের একজন মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প শোনাব,
সে অনেক বছর আগের কথা, এক ভরা পূর্ণিমা রাতে আমি আর সে এক নদীর ধারে বসে গল্প করছি।
গল্প করছি বলাটা ভুল হবে, পূর্ণিমায় জলে জোয়ার আসে, সে জোয়ারের জলে চাঁদ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিক।
তার মুখে জলের তরঙ্গ, আমি সেই তরঙ্গে নৌকা বাইছি আর তার গল্প শুনছি।
আমার গল্প জুড়ে যেমন তার কথা বলছি, তেমনি তার গল্প জুড়ে ছিল স্বর্গীয় দাদা ঠাকুর। আমার খুব মনে আছে সে বলছিল রোজ রাতে দাদা তার সাথে দেখা করেন, অথচ দাদার সৎকারের দিন আমি ছিলাম। দূর থেকে দেখেছি, কাছে যাওয়ার মত অতটা ভাল তখনো বেসে উঠতে পারি নি।
আগেই বলেছি চারিদিক পূর্ণিমায় ভরপুর, কিন্তু হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে আসে। প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়, যেন ঈস্রাফিলের সিঙ্গায় হুঙ্কার বেজে উঠেছে, এই বুঝি শেষ হলো দুনিয়ার সব খেলা।
তান্ডব শেষ হতে হতে সকাল হয়ে গেছে, ছিলাম নদীর ধারে এসে পড়েছি এক জন কোলাহলে। কিন্তু এই কোলাহলের ভিতর তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, তন্নতন্ন খুঁজেও পাই নি আর।
তারপর গেছে অনেক বছর, কত শত নারীর ঠোঁটের হাসিতে বিক্রী করেছি হৃদয়ের জমিন, তা হিসেব করে বলা যাবে না; দুনিয়ার নিয়মে ভুলে গেছি তাকে।
কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মাঝ রাতে যখন জলের তেষ্টা পায়, ঘুমের ঘোরে জল চাইতেই সে ত্রিপয়া থেকে গ্লাসটা তুলে দেয়, আমি জল পান করে আবার শুয়ে পড়ি।
বা কখনো বই পড়তে পড়তে অগোছালো ভাবে ঘুমিয়ে গেলে সে ঠিকঠাক বালিশে মাথাটা পৌঁছে দেয়, চাদরটা গায়ে তুলে দেয়। আমি ঘুমের ঘোরেই তার হাতের স্পর্শ টের পাই, নিশ্বাস এসে কানে সুড়সুড়ি দেয়।
তারপর ঠিক রাত তিনটায়, সেই রাতের দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে। আমার স্পষ্ট মনে আছে সে রাতের ঝড়টা শুরু হয়েছিল ঠিক তিনটায়, পরে জেনেছি সেদিনের ইত্তেফাকের ৪ নম্বর পাতার প্রথম কলামে।
হাতড়ে চশমাটা ঠিক ত্রিপয়ার উপর পাই, অথচ ঘুমাবার সময় আমি পাশের বালিশের উপর রেখেছিলাম ওটাকে, জলের গ্লাসটাও ঠিকঠাক শুণ্য।
আজকাল আমি অনেকটা দ্রুত শুয়ে পড়ি, যদি তারে আরেকটু কাছে পাই! -
বাঁশ
অনেক বেসেছি ভাল,
করেছি প্রেমের চাষ।
ফসল তুলতে যেয়ে দেখি
সবই ছিল বাঁশ।
-
বন্ধ
সেল বাজার বন্ধ, বিক্রয় ডটকম পেইড হয়ে গেছে,
ভাঙ্গা হৃদয় বিক্রীর সবগুলো রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। -
মিথ্যাচার
মুক্তিযুদ্ধের সাথে ধর্মহীনতার যে ত্যানা পেঁচানো হয়, এ দেশে চর্চিত সবচেয়ে বড় মিথ্যাচারগুলোর মধ্যে সেটা অন্যতম।
সুলতানা কামালরা বোধহয় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শোনে না কখনো। -
ভয়ঙ্কর
বুলেটের চেয়ে নারীর অভিমানকেই ভয়ঙ্কর জানি।