Blog

  • কিনতে চাই

    একটা ভাঙ্গাচুরা পুরোনো হৃদয় কিনতে চাই, নিজ দায়িত্বে মেরামত করে নেব।

  • সখি

    ভালয় ভালয় বেরিয়ে এসো সখি,
    নাহলে জঙ্গি বলে ধরিয়ে দেব।

  • আপনি এতো বোকা কেন!

    “আমার বিয়েতে দাওয়াত দিলে আসবেন ??”

    মেয়েটার এমন প্রশ্ন শুনে আমি বেশ থতমত খেয়ে গেলাম, বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম।
    এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্তভাবে বললামঃ হু আসবো।
    মেয়েটা মুচকি হেসে বললোঃ মেন্যুতে কাচ্চি থাকবে, কাচ্চিতে আলু থাকবে, কাচ্চির আলু না আপনার খুব পছন্দ ?
    আমি হেসে ফেললাম, অনেক কঠিন কঠিন মূহুর্তে সে আমাকে হাসাতে পারে; পৃথিবীর আর কেউ অমনটা পারে না ।
    বেশ কিছুক্ষণ পর সে সে তার স্বভাব সুলভ হাসি নিয়ে বললঃ আপনার পূর্ণ নাম কী?
    আমি যথারীতি নির্লিপ্তভাবে বললামঃ কেন?
    তার স্বহাস্য উত্তরঃ আপনি এতো বোকা কেন! কার্ডে বরের নাম লিখতে হবে না!

  • পারি দেব তেপান্তর

    কোন এক বৈশাখী ঝড়ে ভাঙবে আমাদের ঘর,
    দু’জন এক সাথে পারি দেব তেপান্তর।

  • নন্দীনি

    প্রিয়তমেষু নন্দীনি,

    নাগরিক এ কোলাহল ছেড়ে চলো হারিয়ে যাই কোন সবুজ গাঁয়, যেখানে হালখাতায় ভর করে বোশেখ আসে, লাল-সবুজ ঘুড়ি ওড়ায় রাম-রহিম।

  • চল ভাগি

    বৈশাখের এই পহেলা রাতে চল ভাগি,
    একটু পরেই চাঁদ উঠবে, চাঁদের সাথে রাত জাগি।

  • সাধ

    সাধ ছিল একবার তোমায় ছুঁয়ে দেখব……
    অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির নেয় কৃষ্ণকায় চোখ……
    ধনুকের মত বাঁকা হাসি……
    আর মায়াময় নগ্ন হাত……

    সাধ ছিল একবার তোমার স্বাদ নেব…….
    মুক্ত দানার মত চোখের নোনা জল…..
    বুকের মৃদু ঘামের গন্ধ……
    আর ভুবন ভোলানো ঠোঁট……..

    সাধ ছিল একবার তোমায় স্বপ্নে দেখব……
    বিশাল সমুদ্রের পাড়ে শুধু তুমি আর আমি…..
    অসীম আকাশে উড়ন্ত চিল…..
    আর ঝর্ণার জলে চপলা হরিণী…….

  • পদ্মা সেতু

    টাকা কত খরচ হইল সেটা কোন বিষয় না, বিশ্ব মানের নাকি মহাবিশ্ব মানের হইল সেটাও কোন বিষয় না।

    খালি দুইদিন পরপর সেতু না ভাঙলেই হইল।

  • এপোলো ১৩

    ঘন্টা শুনে দরজা খুলে দেখি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে এক যুবক, বলল “জয় নামে একটা চিঠি আছে”।

    চিঠিটা হাতে নিলাম, এক পাশে আমার নাম-ঠিকানা আর অপর প্রান্তে নাসার লোগো।

    ছেলেটাকে বিদায় দিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে খামের ভেতর থেকে বের করলাম চিঠি খানা, এরই মধ্যে ফোন আসলে টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করতেই অপর প্রান্তে কিন্নরকন্ঠী এক মহিলা খাঁটি বাংলায় বললেন “শুভ সন্ধ্যা জয়, আমি এলিস বলছি এপোলো ১৩ অভিযানের প্রধান ব্যবস্থাপক।”

    এরপর এলিসের সাথে আমার দীর্ঘ্য ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড কথা হয়েছে, ফোন রেখে তো আমার মাথা নষ্ট হওয়ার যোগাড়। চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, চিঠিটাও বাংলাতেই লেখা ছিল। যা লেখা ছিল তার সার সংক্ষেপ এই রকম-

    জয়, আগামী ২০২০ সালে এপোলো ১৩ অভিযানের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে, সেই উপলক্ষ্যে আমরা সেটাকে সেলিব্রেট করতে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী ১১ই এপ্রিল ২০২০ এর সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে (UTC) এপোলো ১৩ এর দ্বিতীয় অভিযান উৎহ্মেপণ করবো।

    এমতাবস্থায় বলির পাঁঠার নেতৃত্বে আমরা আপনাকে পছন্দ করেছি এবং জেনে খুশী হবেন যে, এ অভিযানটি চাঁদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে না। এটা হবে মঙ্গলগ্রহ অভিমুখী।

    জেনে আরো খুশী হবেন যে, প্রথম অভিযানের সাথে মিল রাখতে আমরা এ অভিযানেও পুরোনো, ভাঙ্গাচুরা যন্ত্রপাতি দিয়ে নভোযানটি তৈরী করছি আর অভিযানে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ১।

  • প্রকৃতি (পার্ট ১)

    এমনটা ভাবার কোন কারন নাই যে মার্ক ফেসবুক না বানাইলে পৃথিবী স্যোসাল ইঞ্জিন কী জিনিস তা জানতেই পারতো না। সত্য হলো এই যে ফেসবুকেরও আগে মাইস্পেস, হাই ফাইভ তৈরী হইছে।

    শুধু তাই না, ২০০৭ সাল পর্যন্ত তালিকায় মাইস্পেস ছিল ১ নাম্বারে আর হাই ফাইভ ছিল দ্বিতীয়। পরবর্তীতে ফেসবুক দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাকীটা আপনার-আমার সকলেরই জানা।

    তো এর থেকে কী বোঝা গেল?

    এর থেকে বোঝা গেল এই যে, প্রকৃতি যখন যেটার প্রয়োজনীয়তা অনুভব তখন তা নিয়ে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। একটার পর একটা আপডেট নিয়ে আসতে থাকে, ফাইনালি আমরা সর্বশেষ সংস্করণটাকেই মনে রাখি আর পায়রা, হরকরাদের ভুলে যাই।

    আমরা কাবাডি-গোল্লাছুট ভুলে গিয়ে ফুটবল-ক্রিকেটকেই মনে রাখতে পারি শুধু, জুয়েলদের ভুলে শুধু মাশরাফিদের মনে রাখি, দ্রাবিড়-আর্য ভুলে হিন্দু-মুসলমান মনে রাখি।

    আদমকে ভুলে শুধু নিজেকেই মনে রাখি।