Blog

  • ফেরিওয়ালা

    ভাবছি একটা দোকান দেবো…
    আরে নাহ, হেলাল হাফিজের মত কষ্ট বিক্রী করতে কষ্ট কোথায় পাবো?
    আমি কবিতার ভাঙ্গারী দোকান দেবো…

    ঝুড়িসহ তোমার দরজায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করবো-
    “আছে ভাঙ্গাচুড়া মন, পুরোনো কষ্ট, থেতলানো হৃদয়….?”

    প্রথমে ভিতর থেকে হেঁকে উঠলেও বারবার একই শব্দে বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে
    তুমি তোমার পুরোনো কষ্টগুলো ছুঁড়ে দেবে আমার ভাঙ্গারীর ঝুড়িতে…

    বিনিময়ে আমি তোমাকে দেবো নতুন একটা কবিতা…
    তোমার দেয়া কষ্টের বিপরীতে কবিতাখানি কম মূল্যবান…
    এই অভিযোগে তুমি বলবে-
    “না থাক, বিক্রী করবো না।”

    আমিও তল্পিতল্পা গোছানোর সময় বলবো-
    “ঠিক আছে আরও দুটো লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বলবে-
    “দুই লাইন না, যদি ছয় লাইন হয় তবে চলে”
    আমি আশাহত হয়ে গোছানো শেষ করে যখন ফিরবো
    তখন আবার বলবো-
    “তোমারও কথা থাক, আমারটাও…
    দুই লাইন আর ছয় লাইনের মাঝামাঝি চার লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বিক্রী করতে রাজী হলে, আমি খুশি মনে ফিরে আসার সময় পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখবো
    তোমার চোখে এখনো লোকসানের কষ্ট…

  • জাতিস্বর

    সখি, আগের জনমে কথা দিয়েছিলে এ জনমে আমার হবে; এ জনমেও আমার হলে কই!

  • জাল

    আজও জাল ভোট দিয়ে যাই সখি, শুধু তোমায় জেতাবো বলে।

  • নির্বাসন

    তোকে পাবো না জেনেই সখি আমার স্বেচ্ছা নির্বাসন।

  • তোমায় ভালবাসবো বলেই

    আমরা একটা চায়ের দোকানে আড্ডা দিতাম, দোকানের বাম পাশের বাড়ীটার ছাদে একটা মেয়ে ঘুরঘুর করতো।

    প্রেমে পড়তে চাই টাইপের এক্টিভিটিস, মোটামুটি সব যুবকেরই মনযোগ আকর্ষক।

    এর বহু দিন পর রাস্তায় একটা মেয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে বললো “ওটা আমার কাজিন, আপুর দিকে তো নজর যায় ঠিকই, ডান পাশের বিল্ডিং এর ছাদে যে আমি আপনার দিকে তাকিয়ে থাকি সে দিকে নজর যায় না?”

    আমি ঝটপট উত্তর দিলাম “আমি তো জানি ওটা তোমার আপু, তাই তো বড় আপু হিসেবে তাকাই।”

    তার বহুদিন পর আমি বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছি, মনি একটা বালিশ কোলে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার হাতটা ওর মাথার উপর টেনে নিয়ে বলল “সত্যি করে বলো তো, তুমি আপুর দিকে তাকাতে না?”

    আমি নির্দ্বিধায় বললাম “আমি তোমায় ভালবাসবো বলেই মানুষ হয়ে জন্মেছিলাম।”

  • রঙ ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রয় হয় না

    গত বছরের ঘটনা বোধহয়, পারফিউম কিনতে একটা দোকানে ঢুকলাম। আনুমানিক কলেজ পড়ুয়া একটা মেয়ে আর তার ছোট বোন দোকানটা চালাচ্ছে, আমি পারফিউম চাইতে ছোট বোনটাকে বললো তার বাবাকে ডেকে আনতে (রাস্তার পাশে বাড়ী, ঘর লাগোয়া দোকান), খানিকবাদে বাবা না এসে মা এলেন, কিছু ডিউডোরেন্ট বের করে দিলে আমি পারফিউম চাইলাম।

    ভদ্রলোক ভিতরে চা খাচ্ছেন, কিছুক্ষন পর আসার পর আমাকে পারফিউম দিলেন, দরদাম মিটিয়ে আমি কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম।

    ভদ্রলোক জানতে চাইলেন আমি আর কিছু নিব কিনা, আমি বললাম-
    না, আর কিছু নেব না, তবে আপনাকে আমার একটা কথা বলার ছিল, কিন্তু আপনি কিভাবে নিবেন বুঝতে সময় নিচ্ছি।

    লোকটা উৎসুক মনে জিজ্ঞেস করলেন কী কথা বলতে চাই, তিনি শুনতে চান।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম- এ’দুটোই তো আপনার মেয়ে, নাহ?
    – হ্যাঁ।
    আমি – বড় মেয়েটাকে আপনার খারাপ লাগে? মেরে ফেলতে ইচ্ছা হয়?
    – কেন?
    – আপনারা ৩ জনই ফর্সা, বড় মেয়েটা শ্যামলা, মনে হয় না সে আপনার জন্য বোঝা?
    – বোঝা হতে যাবে কেন? সন্তান সাদা হোক, কালো হোক, সে সন্তান। সাদা-কালো দিয়ে মানুষ বিচার করা যায় না, আর সন্তান হলে তো প্রশ্নই ওঠে না।
    আমি – তাহলে এই রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলো দোকান থেকে নামিয়ে ফেলুন, আপনি হয়তো খেয়াল করেন নি কখনো, এই ক্রিমগুলো আপনার মেয়ের দিকে তাকিয়ে টিটকারী করে বলে “তুই কালো, তুই কালো।”

    নিজে আপনাদের চেয়ে কালো বলে হয়তো আয়নায় দাঁড়িয়ে লুকিয়ে কাঁদে, আপনি হয়তো তা কখনো জানতেও পারবেন না।

    সাদা-কালো যদি মানুষকে বিচারের বিষয় না হয়ে থাকে তবে সাদা হওয়ার জন্য কোন ক্রিম থাকা অন্যায়।

    কথাগুলো শেষ করে আমি তাকে কিছু বলতে না দিয়ে হনহন করে চলে এসেছি, বেশ কিছুদিন পর আমার এক বন্ধুকে পাঠিয়েছিলাম, বন্ধু আমার গিয়ে ফেয়ারনেস ক্রিম চাইলে লোকটা একটা তাক এর দিকে ইশারা করলেন, সেখানে একটা স্টিকার লাগানো-

    “এখানে রঙ ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রয় হয় না। মানুষকে ভালবাসুন, গায়ের রঙ নয়।”

  • মায়ের কোন পাপ নেই

    কোন এক চাঁদ রাতের ঘটনা, নিয়মিত যে দোকান থেকে সদাই কিনি সেখানে সদাই কিনছি।

    ভাই-বোন এসেছে মায়ের সাথে সেমাই কিনবে, কিন্তু মেয়েটা বায়না ধরেছে আইসক্রিম খাবে।

    মায়ের মোট বাজেটের সমান আইসক্রিমের দাম!

    মা – আমার কাছে তো আজ টাকা নাই, ঈদের দিন টাকা যোগাড় করে আইসক্রিম কিনে দিব।

    মায়ের মিথ্যা কথাটা মেয়েটা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়ে চলে যাচ্ছিল, আমি ফ্রিজ থেকে একটা আইসক্রিম বের করে মেয়েটাকে দিয়ে বললাম দু’ ভাই-বোন মিলে খেয়ে নেয় যেন।

    মা হাতের টাকাটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলে কিছুই বললাম না, আমার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

    আমি জেনেছি শুধু এই,
    মিথ্যা বলা মহা পাপ,
    মায়ের কোন পাপ নেই।

  • ২১শে জুন

    দু পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দুটোতে কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই, রক্ত চলাচল না করলে যেমন হয়।

    সারাদিন শুয়ে-বসে খেলেও পায়ের পাতা দুটো শক্ত হয়ে যাচ্ছে খুব।

    হ্যাঁ, আমি বদলে যাচ্ছি। বদলে যাওয়া যখন অপরাধ, তখন তার সাস্তি মাথা পেতে নিলাম।

    জজ সাহেব, আমার কী সাজা দিবেন?
    মৃত্যু?
    মাধ্যম কী?
    ফাঁসি?

    এটা বড়ই একঘেঁয়ে, কোন এক ২১শে জুন প্রকাশ্য দিবালোকে পল্টন ময়দানে বিশাল ঘটা করে আমার মাথায় পরপর ২১ টা গুলি করলে কেমন হয়?

    হাজার হাজার উৎসুক জনতা দেখবে একজন মানুষের বদলে যাওয়ার সাজা, এদের কেউ এর আগে এমন সাজা দেখে নি, দিকে দিকে আমার নাম ছড়াবে, আপনারও।

    বিবিসি আসবে, সিএনএন আসবে, রয়টার্স আসবে, পরদিন পত্রিকায় ছাপা হবে-
    “ঘরহারা এক যুবকের বদলে যাওয়ার অপরাধের সাজা হিসেবে প্রকাশ্য দিবালোকে ২১টি গুলি করে তার মৃত্যুদন্ত কার্যকর করা হলো”।

    কেউ জানবে না, ২১শে জুন ছিল যুবকের জন্মদিন।

  • তোমার দেয়া আমার কোন নাম ছিল না

    নদীর ওপারে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, নদীর কোল ঘেঁষে দুয়েকটা বাড়ী-ঘর।
    আমি যখন গোসল করতে নদীতে যেতাম, অথবা মন খারাপের বিকেলগুলো নদীর সাথে কাব্য করতাম, তখন ওপার থেকে একটা মেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখতো।

    শেষের দিকে মেয়েটার সাহস বেড়ে যায়, আর লুকিয়ে নয়, প্রকাশ্যে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। ততদিনে খেলা শেষ পর্যায়ে, আমি তল্পিতল্পা গুছিয়ে নিচ্ছি। মেয়েটা আমাকে বলেছিল “ফতুয়াওয়ালা, ভুলে যেও না।”, ফতুয়াওয়ালা নামটা মনে ধরলেও আমি তাকে দেয়ার মত কোন নাম খুঁজে পাই নি, তাকে মনেও রাখি নি আমি।

    আমার মত একজন বাউন্ডুলের কাউকে মনে রাখা সম্ভব না, প্রচন্ড অভিমানে সে অর্ণবকে বললো “ওহে গায়েন, আমায় একটা নামহীন গান লিখে দাও না!”।

    তার জন্য অর্ণব গান বাঁধলো-
    তোমার দেয়া আমার কোন নাম ছিল না, নাম ছিল না।

  • তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ!

    – এই দাঁড়ান, এই তিন দিন কই ছিলেন?
    – কোথাও না।
    – কোথাও না মানে! কোথাও তো ছিলেন।
    – মঙ্গল গ্রহে গেছিলাম, মা-বাবার সাথে দেখা করতে।
    – মঙ্গল গ্রহেই যান আর চন্দ্র গ্রহণেই যান…
    – চন্দ্র গ্রহণে ক্যামনে যায়!
    – মঙ্গল গ্রহে ক্যামনে যায়?
    – মঙ্গল গ্রহ তো একটা গ্রহ, স্থান, রকেটে যাওয়া যায়, আর চন্দ্র গ্রহণ তো সময়, কাল।
    – টাইম ট্রাভেলের কথা শোনেন নাই?
    – ওহ! আচ্ছা, বুঝছি।
    – আপনি বোঝেন বা না বোঝে তা বুঝে আমার কাজ নাই।
    – সেই কাজের কথাটাই বলো, কেউ দেখে ফেল্লে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
    – বাকী রইল কই!
    – কী বাকী রইল কই?
    – সর্বনাশ!
    – বুঝি নাই।
    – তোমার চোখে দেখেছি সখা আমার সর্বনাশ!
    – বুঝছি, এবার কাজের কথাটা বলো।
    – নেক্সট টাইম মঙ্গলে যাও আর নেপচুনেই যাও এসে কিন্তু আমাকে পাবে না, আমি অন্য কোন গ্যালাক্সিতে চলে যাব।
    – যাওয়ার সময় মঙ্গলের পাশ দিয়ে যাবে, আমি লাফ দিয়ে উঠে পড়ব, ওকে?
    – ধ্যাঁত, আমি আগেই জানতাম তুমি এমন খারাপ। জেনেশুনে নিজের সর্বনাশটা করলাম! :/