Category: নোট

  • পাটকাঠি ও মুটকির গল্প

    – এই এই, কী করছিস!
    – মুখ মুছতেছি, খাওয়ার পর মুখ মোছা সুন্নত।
    – কই থিকা পাইছোস?
    – সেদিন এক বড় ভাই বলছে।
    – তোর ঐ বড় ভাই এটা বলে নাই যে, পর নারীর ওড়নায় মুখ মোছা হারাম?
    – না রে, ভাই মনে হয় ব্যপারটা বলতে ভুলে গেছিল।
    – আচ্ছা, নেক্সট টাইম মনে রাখবি।
    – মনে না থাকলে, আবার যদি মুখ মুছি তখন মনে করাই দিবি, ঠিক আছে?
    – তোরে নিয়া যে আমি কই যাই!
    – স্যরি বাবা, আমি তোর সাথে কোথাও যাব না। তুই যে পেটুক! সিঙ্গাড়া নিলাম ৪ খানা, তার মধ্যে তো সাড়ে তিনখানাই তুই খাইলি।
    – খাইছি ভাল করছি, বেশী বেশী খাই বলেই তো আমি সাস্থ্যবান আর তুই পাটকাঠি।
    – তুই সাস্থ্যবান নাকি মুটকি?
    – হ, আমি মুটকি এবার ঠিক আছে? চল দেরী হয়ে যাচ্ছে।
  • মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প

    আজ তোমাদের একজন মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প শোনাব,
    সে অনেক বছর আগের কথা, এক ভরা পূর্ণিমা রাতে আমি আর সে এক নদীর ধারে বসে গল্প করছি।
    গল্প করছি বলাটা ভুল হবে, পূর্ণিমায় জলে জোয়ার আসে, সে জোয়ারের জলে চাঁদ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিক।
    তার মুখে জলের তরঙ্গ, আমি সেই তরঙ্গে নৌকা বাইছি আর তার গল্প শুনছি।
    আমার গল্প জুড়ে যেমন তার কথা বলছি, তেমনি তার গল্প জুড়ে ছিল স্বর্গীয় দাদা ঠাকুর। আমার খুব মনে আছে সে বলছিল রোজ রাতে দাদা তার সাথে দেখা করেন, অথচ দাদার সৎকারের দিন আমি ছিলাম। দূর থেকে দেখেছি, কাছে যাওয়ার মত অতটা ভাল তখনো বেসে উঠতে পারি নি।
    আগেই বলেছি চারিদিক পূর্ণিমায় ভরপুর, কিন্তু হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে আসে। প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়, যেন ঈস্রাফিলের সিঙ্গায় হুঙ্কার বেজে উঠেছে, এই বুঝি শেষ হলো দুনিয়ার সব খেলা।
    তান্ডব শেষ হতে হতে সকাল হয়ে গেছে, ছিলাম নদীর ধারে এসে পড়েছি এক জন কোলাহলে। কিন্তু এই কোলাহলের ভিতর তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, তন্নতন্ন খুঁজেও পাই নি আর।
    তারপর গেছে অনেক বছর, কত শত নারীর ঠোঁটের হাসিতে বিক্রী করেছি হৃদয়ের জমিন, তা হিসেব করে বলা যাবে না; দুনিয়ার নিয়মে ভুলে গেছি তাকে।
    কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মাঝ রাতে যখন জলের তেষ্টা পায়, ঘুমের ঘোরে জল চাইতেই সে ত্রিপয়া থেকে গ্লাসটা তুলে দেয়, আমি জল পান করে আবার শুয়ে পড়ি।
    বা কখনো বই পড়তে পড়তে অগোছালো ভাবে ঘুমিয়ে গেলে সে ঠিকঠাক বালিশে মাথাটা পৌঁছে দেয়, চাদরটা গায়ে তুলে দেয়। আমি ঘুমের ঘোরেই তার হাতের স্পর্শ টের পাই, নিশ্বাস এসে কানে সুড়সুড়ি দেয়।
    তারপর ঠিক রাত তিনটায়, সেই রাতের দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে। আমার স্পষ্ট মনে আছে সে রাতের ঝড়টা শুরু হয়েছিল ঠিক তিনটায়, পরে জেনেছি সেদিনের ইত্তেফাকের ৪ নম্বর পাতার প্রথম কলামে।
    হাতড়ে চশমাটা ঠিক ত্রিপয়ার উপর পাই, অথচ ঘুমাবার সময় আমি পাশের বালিশের উপর রেখেছিলাম ওটাকে, জলের গ্লাসটাও ঠিকঠাক শুণ্য।
    আজকাল আমি অনেকটা দ্রুত শুয়ে পড়ি, যদি তারে আরেকটু কাছে পাই!

  • পণ

    সখি,
    তোরে ছাড়া চায়ের কাপে চুমুক দেব না আর।

  • অভিজ্ঞতা অনাবশ্যক

    জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অভিজ্ঞতা অনাবশ্যক।

    স্বনামধন্য নয় এমন একজন চালচুলোহীন বেকার যুবকের জন্য ভাল মনওয়ালা একজন প্রেমিকা দরকার।
    * বেতন আলোচনা সাপেক্ষ।
  • হারাই গিয়ে বঙ্গে

    হারিয়ে যাওয়ার কালেও তোরে যেন পাই সঙ্গে…
    চলনা সখি, হারাই গিয়ে বঙ্গে…
  • অবসর

    সখি,
    ওয়াহিদ ভাই ভাবির জন্য অবসর নিল, আমিও তোমার জন্য অবসর নিতে চাই।
  • ভালবাসি

    সখি, “ভালবাসি” শব্দটার অর্থই ভুলে গেছি;
    কত দিন হয় তুমি বল না আর “ভালবাসি”।
  • নেতা

    যেমন আমার জনগন তেমন আমি নেতা…
    টাকা দিয়া ভোট কিনছি কি রাখতে দেয়া কথা…?
    ৫০ লাখ খরচ করে জিতছি নির্বাচনে…
    সব টাকা তুলতে হইব মাত্র ৫টা সনে…

    এমন করলে চলবে কি ভাই?
    লোভটা একটু সামলাও।

    কী যে বলিস!
    আমি কি আর একা খাই?
    মাথার উপর ছড়ি ঘোরায় কত নেতা,
    আছে অনেক আমলাও।

    জনগনরে বলদ পাইছো যদি মনে করো,
    সামনে অনেক বিপদ আছে ভেবে দেখো ভাই।

    ঐ ব্যাটা, ভয় দেখাস?
    জনগনকে আমরা কেয়ার করি থোরাই।

  • সূর্য ডোবা

    এই সন্ধ্যায় সখি,
    একলা ক্যামনে সূর্য ডোবা দেখি!

  • ব্যথা

    এমন করেই তুমি ব্যথা দিয়ে যাও সখি মোরে,
    আমি তা বুকেতে আগলে রাখি পরম যতন করে।