যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে-
জানি, মারবি জুতো-
এখন যে তোর এতো প্রেম,
জানি, সবই ক্ষমতায়নের ছুতো।
Category: খুদি গল্প
ছোট গল্পের আয়োজন।
-
ক্ষমতায়ন
-
আজ শুভ্রর বিয়ে
আজ শুভ্রর বিয়ে…
আমি হুমায়ুন আহমেদকে অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করতে চাই না, তাই গল্পটা এখানেই শেষ।
এবং হুমায়ুনের গল্পের মতো কোন রেল স্টেশনে না হয়ে দরিদ্র পিতার সেই ছোট্র ঘরটিকেই বানানো হয়েছে বাসর ঘর, সেই ঘরেই জরী অপেক্ষা করছে এক জনমের সাধনার সেই বাসরের।
-
প্রাক্তন ও পুলিশ
গত বছরের ঘটনা, জিইসি থেকে প্রাক্তন আর আমি
সিএনজিতে আসতেছি একে খান, রেল গেইটে পুলিশ আটকে জিজ্ঞেস করলো আমরা কী হই।
আমি ভাবতেছি কী বললে পুলিশও রাগ করবে না, প্রাক্তনও রাগ করবে না।
আমি ভাবতে ভাবতেই প্রাক্তন বলে কাজিন।
এখন পুলিশের প্রশ্ন সিলেট আর চিটাগং এ কাজিন হয় ক্যামনে!
পুলিশের কথা শুনে আমি স্ট্যাচু! কাজিন ২ বিভাগে থাকতে পারে না?
-
এপোলো ১৩
ঘন্টা শুনে দরজা খুলে দেখি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে এক যুবক, বলল “জয় নামে একটা চিঠি আছে”।
চিঠিটা হাতে নিলাম, এক পাশে আমার নাম-ঠিকানা আর অপর প্রান্তে নাসার লোগো।
ছেলেটাকে বিদায় দিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে খামের ভেতর থেকে বের করলাম চিঠি খানা, এরই মধ্যে ফোন আসলে টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করতেই অপর প্রান্তে কিন্নরকন্ঠী এক মহিলা খাঁটি বাংলায় বললেন “শুভ সন্ধ্যা জয়, আমি এলিস বলছি এপোলো ১৩ অভিযানের প্রধান ব্যবস্থাপক।”
এরপর এলিসের সাথে আমার দীর্ঘ্য ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড কথা হয়েছে, ফোন রেখে তো আমার মাথা নষ্ট হওয়ার যোগাড়। চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, চিঠিটাও বাংলাতেই লেখা ছিল। যা লেখা ছিল তার সার সংক্ষেপ এই রকম-
জয়, আগামী ২০২০ সালে এপোলো ১৩ অভিযানের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে, সেই উপলক্ষ্যে আমরা সেটাকে সেলিব্রেট করতে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী ১১ই এপ্রিল ২০২০ এর সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে (UTC) এপোলো ১৩ এর দ্বিতীয় অভিযান উৎহ্মেপণ করবো।
এমতাবস্থায় বলির পাঁঠার নেতৃত্বে আমরা আপনাকে পছন্দ করেছি এবং জেনে খুশী হবেন যে, এ অভিযানটি চাঁদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে না। এটা হবে মঙ্গলগ্রহ অভিমুখী।
জেনে আরো খুশী হবেন যে, প্রথম অভিযানের সাথে মিল রাখতে আমরা এ অভিযানেও পুরোনো, ভাঙ্গাচুরা যন্ত্রপাতি দিয়ে নভোযানটি তৈরী করছি আর অভিযানে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ১।
-
আছি? আছি? আছি?
ছেলেবেলায় খেলাধুলা খুব কম করেছি, পাট কাঠির মত শুকনো হওয়ার ফলে খেলাধুলায় খুব বেশী সামর্থ্যবানও ছিলাম না। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠতাম, অনেকবার মাঠে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা আছে, টেবিলের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙ্গা রেডিও, টুইনওয়ান, টেলিভিশন, লাইট ইত্যাদিই ছিল প্রিয় খেলার সাথী।
সিগারেটের প্যাকেটে থাকা এ্যালুমিনিয়ামের কাগজ ছিল এক সময় সপ্তম আশ্চর্য্য, রাস্তায় রাস্তায় তাই খুঁজতাম। পেন্সিল ব্যটারী, বাতি আর সিগারেটের সেই কাগজ! নিজেকে বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী মনে হতো।
হান্নান চাচার ওয়ার্কশপ থেকে বাবা একটা অক্ষয় রিক্সা বানিয়ে দিয়েছিলেন দুই সিটওয়ালা। বন্ধুদের সাথে চ্যালেঞ্জ ধরে রিক্সা চালাতাম একই দাগে বারবার।
মেয়েরা থাকলে খেলাগুলো হয়ে উঠতো ওদের অনুকূলে, গোল্লাছুট, বউচি, কানামাছি, এক্কাদোক্কা, ইত্যাদি।
আরেকটা খেলার নাম মনে করতে পারছি না, যেটাতে একজনের চোখ হাত দিয়ে বন্ধ রেখে নিজ দলের খেলোয়াড়দের ছদ্মনাম ডাকা হতো এভাবে- আয়রে আমার টিয়া।
তখন টিয়া এসে চোখ বন্ধ যার তার কপালে টোকা দিয়ে যেত।তো এক্কাদোক্কা খেলার অনেকগুলো ধরন আছে (অঞ্চলভেদে) আমরা দুটো খেলতাম, তার মধ্যে একটি ছিল এমন-
আকাশের দিকে তাকিয়ে খেলোয়াড় ঘরগুলো পার হতো আর বলতো “আছি? আছি? আছি?”জীবনের এই সময়টাতে এসে যেন এক্কাদোক্কা খেলছি সময়ের সাথে, আকাশের দিকে তাকিয়ে মাটিতে পা ফেলছি আর বারবার জিজ্ঞেস করছি-
আছি? আছি? আছি?
-
যদি আর বাঁশী না বাজে
বিশ্বাস করুন আমি সেলিব্রিটি হতে আসিনি।
আমি নেতা হতে আসিনি।
আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।
সে প্রেম পেলাম না বলে
আমি এই প্রেমহীন নীরস ফেসবুক থেকে
নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।
—– কাজী নজরুল ইসলাম |
-
ছেলেবেলা
সে আমাকে ইনবক্সে বলল– একদিন মাসের শেষে শুণ্য দিয়ে ফেবু চালাচ্ছে, হঠাৎ শুন্য দিয়ে ফেবুতে আর ঢোকা যাচ্ছে না। ঐ দিকে চন্দা ভীষণ রেগে বসে আছে… যেন তুফান উঠেছে, প্রেম ডোবে ডোবে অবস্থা। আবদুল অনেক ঘেঁটেঘুঁটে গ্রামীনফোনের ২টাকায় ১ মেগাবাইটের প্যাকেজটা নিল, কোন মতে চন্দাকে ম্যাসেজ দিল যে শুন্য দিয়ে ফেবু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গল্পটা এত শিগ্গির শেষ হল, আমার পছন্দ হল না। মোবাইলে ২টাকা ব্যালেন্স ছিল, অমনিই বেঁচে গেল প্রেম, এ তো গপ্পই নয়। বারবার বলতে লাগলুম “তার পর’?
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর