Category: এলোমেলো কথোপকথন

  • ভালোবাসি ভালোবাসি

    তোমাকে একদিন আপনি
    করে ডাকবো, তুমি কি খুব
    রেগে যাবে সখি?
    রেগে গিয়ে আমার গায়ে
    বালিশ ছুঁড়ে মারবে কি?

    হাতের দামী ফোন,
    অথবা তোমার চুল-
    আঁচড়াবার নিরীহ চিরুনী?
    নাকি আমার লম্বা চুল টেনে
    কানের কাছে মুখ নিয়ে বলবে-
    যে নামেই ডাকো আমায়
    ভালোবাসি সে নামই।

    #সখি #ভালোবাসি #এলোমেলোকথোপকথন

  • জাত-জালিয়াত

    জাতে উঠতে ধর্ম ছাইড়া হইলাম মুনাফেক,
    ওঠার পরে শুনি লালন কয়-
    জাত-পাত সব ফেক!

    নজরুল নামের এক হারামজাদা
    আমারে কয় বজ্জাত!
    একবার হাতের কাছে পাই শালারে,
    ঘুসিয়ে ফেলবো সব দাঁত।

    জাতের কবি জীবন বাবু,
    শুধালাম তারে দাদা –
    জাতের কোনও মন্ত্র দাও না!
    সে’ও দেখি উল্টো পথে-
    আমারে কয় জাত! সে আবার কী রে গাধা!

    এখন মান-সম্মান বাঁচাতে পারেন –
    কেবলই কবি গুরু,
    গুরুও বলেন- জাতে উঠতে চাস! কেমন মগজ রে তোর!
    মানুষ নাকি গরু?

    উপয়ান্তর না পেয়ে রওয়ানা দিলাম-
    কপোতাক্ষের পাড়ে,
    এখন আমাকে একমাত্র মধু বাবুই
    সঠিক দিশা দিতে পারে।

    পাশে বসাইয়া বাবু মাথায় রাখিয়া হাত,
    কহিলেন- বাপু, ভুলিয়া যাও সব মিথ্যা জাত-পাত।

    মেথর কি কুলি, হও না নাপিত-ধোপা,
    তাতে কিছু যায় আসে না রে বোকা।

    আপনারে তুমি ছুঁয়েই দেখো না-
    আপন হাত দিয়া,
    নাম কী তোমার জিজ্ঞেস করে দেখো,
    তোমার নামই উত্তর দিবে হিয়া।

  • কবি

    এসব রমনীরা আমাদের প্রতিটি মূহৃর্তকে কেড়ে নেয়,
    আমাদের চিন্তা-চেতনা-
    অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে আস্তকুঁড়ে।

    আজ যে ছেলেটা মেধাবী-
    কাল সে হয়ে যায় মাদক সেবি,
    এভাবেই রমনীরা আমাদের
    অনুভূতি গুলো কেড়ে নেয়।
    আমাদের হাসি-কান্না।।

    অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে গহীন শুণ্যে,
    আজ যে ছেলেটা সবচেয়ে সুখী-
    কাল সে হয়ে যায় দুঃখ ফেরারী।

    যে ছেলেটা ডাক্তার হবে-
    সেই হয় তো হয়ে গেলো রফিক আজাদ।

    এভাবেই বেড়ে চলে কবিদের ভীড়,
    এভাবেই হয়তো আমরা সুনীলদের ভীড়ে মিশে যাই।

  • কড়চা

    জীবন তবু বয়ে যাবে, প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে,
    রামপাল নিয়ে রাম ছাগলের পালেরা ম্যাৎকার করবেই।
    যে হাসপাতালে শহীদ কাদরী ঘুমিয়ে যাবেন-
    সেই হাসপাতালেই এবরশনের বিষাক্ত থাবায়,
    পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই বিদায় নিবে কোন গর্ভ শিশু।


    ফিরে আসি ফের দেশে-
    এখানে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোন জোচ্চর মন্ত্রী বলে উঠবেন-
    ভারতের দেয়া বন্যার জল দেশের জন্য আশীর্বাদ।


    ঐ দিকে ইনু, পিতা. পিতা.. পিতা… বলতে বলতে মুর্ছা যাবে বারংবার,
    তাই দেখে সবাই বলে উঠবে আহ! ছেলেটা কত যে পিতৃভক্ত!


    টিউশনি পড়ানো যুবক স্বপ্ন দেখবে- বেতনের টাকায় বাসা ভাড়ার বকেয়া দিবে,
    ছিনতাইকারী যুবক চিন্তা করবে- মক্কেল না পেলে মায়ের ঔষধ কিনতে টাকা পাবো কোথায়!
    চাকুরী খোঁজা যুবক ভাববে আরেকটি মাস শেষ!


    জগন্নাথে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর জয় বাংলা বলে হামলে পড়বে জয় বাংলার ছেলেরা।


    কাল পত্রিকার পাতা উল্টে জানবেন-
    এ মাসে সারাদেশে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ৩৩১টি।

  • ২১শে জুন

    দু পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দুটোতে কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই, রক্ত চলাচল না করলে যেমন হয়।

    সারাদিন শুয়ে-বসে খেলেও পায়ের পাতা দুটো শক্ত হয়ে যাচ্ছে খুব।

    হ্যাঁ, আমি বদলে যাচ্ছি। বদলে যাওয়া যখন অপরাধ, তখন তার সাস্তি মাথা পেতে নিলাম।

    জজ সাহেব, আমার কী সাজা দিবেন?
    মৃত্যু?
    মাধ্যম কী?
    ফাঁসি?

    এটা বড়ই একঘেঁয়ে, কোন এক ২১শে জুন প্রকাশ্য দিবালোকে পল্টন ময়দানে বিশাল ঘটা করে আমার মাথায় পরপর ২১ টা গুলি করলে কেমন হয়?

    হাজার হাজার উৎসুক জনতা দেখবে একজন মানুষের বদলে যাওয়ার সাজা, এদের কেউ এর আগে এমন সাজা দেখে নি, দিকে দিকে আমার নাম ছড়াবে, আপনারও।

    বিবিসি আসবে, সিএনএন আসবে, রয়টার্স আসবে, পরদিন পত্রিকায় ছাপা হবে-
    “ঘরহারা এক যুবকের বদলে যাওয়ার অপরাধের সাজা হিসেবে প্রকাশ্য দিবালোকে ২১টি গুলি করে তার মৃত্যুদন্ত কার্যকর করা হলো”।

    কেউ জানবে না, ২১শে জুন ছিল যুবকের জন্মদিন।

  • অভিযোগ

    মানুষের অভিযোগ বরাবরই মানুষের বিরুদ্ধে ছিল, তার পরের অবস্থানেই ঈশ্বর।

  • তুমি আসো না কেন ডাক্তার বাবু?

    ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু…
    আপনি আসেন না কেন ডাক্তার বাবু?

    জানেন আমি এখন হাঁটতে পারি!
    ডান পাঁয়ের ব্যাথাটা যদিও কিঞ্চিত রয়ে গেছে…
    আপনি এলে বুঝি তাও সেরে যাবে…

    ডাক্তার বাবু, আপনি কোথায় ডাক্তার বাবু?
    হতচ্ছাড়ি নার্সের হুল ফোঁটানো ইঞ্জেকশন নিতে বড় কষ্ট হয়…

    জানেন! আমি এখন দুটো হাতই নাড়াতে পারি…
    বিকেলে যখন বেড থেকে বারান্দায় যাই, তখন মনে হয় ইস!
    কেউ যদি হাতটা ধরে নিয়ে যেতো…

    আমার চাওয়ার কি কোন দাম নেই ডাক্তার বাবু?
    মাঝরাতে যখন সমস্ত হাসপাতাল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন আমি কারো প্রতিক্ষায় রই…
    গতরাতে হঠাৎ যখন দরজার পর্দাটা মৃদু কেঁপে উঠলো, পর্দার সাথে আমার হৃদয়ও…
    মনে হলো, এই বুঝি শেষ হলো আমার প্রতিক্ষা…

    ডাক্তার বাবু, মুহুর্তেই আমার ভুল ভাঙ্গে, যখন আমার মুখে অসহ্য আঘাত করে একরাশ ঠান্ডা হাওয়া…

    ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু…
    তুমি আসো না কেন ডাক্তার বাবু?

  • স্বাধীন হতে চাই ধুয়ে মুছে সব রক্ত… রক্ত দিয়ে…

    ৩০শে এপ্রিল ফোটেনি যে বোমা…
    সে বোমা ফোটানোর সময় এসেছে…

    আগস্ট মাস, এ মাসটি এলেই মনে হয় এ যেন মুজিব মৃত্যুর মাস…. টিভি, পত্রিকা, রেডিও, পথ-ঘাট সর্বত্র মুজিবিয় স্লোগান…. অথচ…. এ মাস প্রফুল্লের…. এ মাস ক্ষুদিরামের…

    মুজিব হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে, এ নিয়ে আর মাতামাতিরও কিছু নেই…. তিতুমীর, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল, সূর্য সেনদের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ জাতি কি আদৌ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে?

    স্বাধীন হতে চাই ধুয়ে মুছে সব রক্ত…. রক্ত দিয়ে….