আদেলের ইচ্ছা ছিল ফারিহাকে নিয়ে একটা বুটিক শপ দিবে, শ্যুটিং-শাটিং সব ছেড়ে দিয়ে একান্ত নিজেদের একটা জগত বানাবে।
পিজু আর হাসিবের কাছে ফিরে আসে নি, সে এখন কেএফসির একটা ফ্রাঞ্চাইজির মালিকের সাথে ঘর করছে, ঐ দিকে হাসিব এখন পাড়ার মোড়ে একটা পিঁয়াজুর দোকান দিয়েছে। দোকানের আসল কাষ্টমারেরা (ইথান, উজ্জল, পিয়াল প্রমুখ) পিঁয়াজু খেয়ে টাকা দেয় না কখনো, আসলে এটা পিঁয়াজুর দোকান হলেও মূল ব্যবসা অন্য কোথাও।
আদেল এখন আর শ্যুটিং করে না, মেলায় মেলায় সেই ভাঙ্গাচুরা বন্দুকটা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পোলাপাইন ১০ টাকায় ১২টা বেলুন টার্গেট করার চান্স পায়; ব্যবসাটা খারাপ না, প্রতিদিন কতশত রমনী এখন ওর সামনে এসে দাঁড়ায়! কোন কোন রমনী যখন একটাও টার্গেট করতে পারে না তখন আদেল এক্সট্রা গুলি দিয়ে নিজে হাতে ধরে শ্যুট করা শেখায়।
তখন সে জ্যাক আর রোজ! এর কথা কল্পনা করে।
আর আমি!
আমি এখনো স্বপ্ন ফেরী করে বেড়াই-
স্বপ্ন নেবে স্বপ্ন
হরেক রকম স্বপ্ন আছে
স্বপ্ন নেবে স্বপ্ন !
লাল স্বপ্ন নীল স্বপ্ন কাঁচা হলুদ রঙের স্বপ্ন
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা স্বপ্ন,
আলোর মাঝে কালোর স্বপ্ন
‘মালটি-কালার’ স্বপ্ন আছে
স্বপ্ন নেবে স্বপ্ন।
Category: অন্য প্রেমের গান
-
ফেরীওয়ালা
-
ঠিকানা পাইল কই!
বাসায় যাইতেছি, আমার সামনে সামনে একটা মেয়ে হাঁটতেছে;
সে যে দিকে মোড় নেয় আমিও ঐ দিকেই মোড় নেই।সে ভাবছে আমি তাকে ফলো করছি কেন?
আর আমি ভাবছি মেয়েটা আমার বাসার ঠিকানা পাইল কই! -
হারাইয়া গিয়াছে
একটি জরুরী ঘোষণা-
ভালবাসা পূর্ণ একটা হৃদয় হারাইয়া গিয়াছে, যদি কোন স্বহৃদয়বান নারী পাইয়া থাকেন তবে আমার নিকট জানাইবার অনুরোধ রইল।
বিঃদ্রঃ পুরষ্কারের ব্যবস্থা আছে।
-
আনটাইটেলড প্রেম
– এই শোন।
– আমাকে বলছেন?
– হ্যাঁ, তুমি আর ঐ দিকটাতে আসো না কেন?
– কোন দিকে?
– তুমি না আগে রোজ কলোনীতে খেলতে যেতে?
– আপনি জানেন কী করে? আপনার বাসা কলোনীতে?
– ওহ! তুমি আমায় চিনতে পারছো না? রউফ, আমার ভাই।
– ওহ! আপু, স্যরি।
– ধ্যাঁত, রউফ আমার বড়, গুনে গুনে দেড় বছরের বড়।৬ মাস পর –
– তুমি না একটা গাধা।
– আবার কী করলাম!
– না, নতুন করে কিছু করো নাই।
– তবে?
– রউফ আমার ছোট, গুনে গুনে দেড় বছরের ছোট।
– বলো কী আপু!
– একটা থাপ্পড় দিব।
– দাও না, আমি তোমার স্পর্শে হারাই।অতপর বয়সে দেড় বছরের ছোট প্রেমিককে মেয়েটি প্রেম শিখাইতে ব্যস্ত হইল।
-
মিথ্যে গল্প
ভালবাসা চাইনাকো আর ভালবাসতে চাইনা,
তোমার জন্য একটুক্ষন ও রাত জাগিতে চাইনা।
উপোষ করে তোমার জন্য শুভ কামনা,
এখন আমার ভিষণ ক্ষিধে উপোষ পারিনা।হিঁদুর ছেলে নইকো আমি মন্দিরে যাই তবু,
ঢের হয়েছে এমনটা, আর হবেনা কভূ।গঙ্গার জলে কত যে পুজোয় ঢেলেছি জবা ফুল,
আজ এসেনা বুঝলাম আমি সব হয়েছে ভুল।হিঁদুর ঘরে যায়না যাওয়া, বন্ধ দরজা বেদ’এ,
সব দরজা বন্ধ এখন কি লাভ হবে কেঁদে।তাই কাঁদিনা, রাত জাগিনা, বাসিনা তোমায় ভাল,
সন্ধ্যা হলো ঠাকুর ঘরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালো।মসজিদে যাই আযান হলো, নামাজ পড়ি গিয়ে,
তোমায় ভুলে থাকতে চাই আমার আমি নিয়ে। -
পাটকাঠি ও মুটকির গল্প
– এই এই, কী করছিস!– মুখ মুছতেছি, খাওয়ার পর মুখ মোছা সুন্নত।– কই থিকা পাইছোস?– সেদিন এক বড় ভাই বলছে।– তোর ঐ বড় ভাই এটা বলে নাই যে, পর নারীর ওড়নায় মুখ মোছা হারাম?– না রে, ভাই মনে হয় ব্যপারটা বলতে ভুলে গেছিল।– আচ্ছা, নেক্সট টাইম মনে রাখবি।– মনে না থাকলে, আবার যদি মুখ মুছি তখন মনে করাই দিবি, ঠিক আছে?– তোরে নিয়া যে আমি কই যাই!– স্যরি বাবা, আমি তোর সাথে কোথাও যাব না। তুই যে পেটুক! সিঙ্গাড়া নিলাম ৪ খানা, তার মধ্যে তো সাড়ে তিনখানাই তুই খাইলি।– খাইছি ভাল করছি, বেশী বেশী খাই বলেই তো আমি সাস্থ্যবান আর তুই পাটকাঠি।– তুই সাস্থ্যবান নাকি মুটকি?– হ, আমি মুটকি এবার ঠিক আছে? চল দেরী হয়ে যাচ্ছে। -
মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প
আজ তোমাদের একজন মায়াবতী ও ঝড়ের গল্প শোনাব,
সে অনেক বছর আগের কথা, এক ভরা পূর্ণিমা রাতে আমি আর সে এক নদীর ধারে বসে গল্প করছি।
গল্প করছি বলাটা ভুল হবে, পূর্ণিমায় জলে জোয়ার আসে, সে জোয়ারের জলে চাঁদ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিক।
তার মুখে জলের তরঙ্গ, আমি সেই তরঙ্গে নৌকা বাইছি আর তার গল্প শুনছি।
আমার গল্প জুড়ে যেমন তার কথা বলছি, তেমনি তার গল্প জুড়ে ছিল স্বর্গীয় দাদা ঠাকুর। আমার খুব মনে আছে সে বলছিল রোজ রাতে দাদা তার সাথে দেখা করেন, অথচ দাদার সৎকারের দিন আমি ছিলাম। দূর থেকে দেখেছি, কাছে যাওয়ার মত অতটা ভাল তখনো বেসে উঠতে পারি নি।
আগেই বলেছি চারিদিক পূর্ণিমায় ভরপুর, কিন্তু হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে আসে। প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়, যেন ঈস্রাফিলের সিঙ্গায় হুঙ্কার বেজে উঠেছে, এই বুঝি শেষ হলো দুনিয়ার সব খেলা।
তান্ডব শেষ হতে হতে সকাল হয়ে গেছে, ছিলাম নদীর ধারে এসে পড়েছি এক জন কোলাহলে। কিন্তু এই কোলাহলের ভিতর তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, তন্নতন্ন খুঁজেও পাই নি আর।
তারপর গেছে অনেক বছর, কত শত নারীর ঠোঁটের হাসিতে বিক্রী করেছি হৃদয়ের জমিন, তা হিসেব করে বলা যাবে না; দুনিয়ার নিয়মে ভুলে গেছি তাকে।
কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মাঝ রাতে যখন জলের তেষ্টা পায়, ঘুমের ঘোরে জল চাইতেই সে ত্রিপয়া থেকে গ্লাসটা তুলে দেয়, আমি জল পান করে আবার শুয়ে পড়ি।
বা কখনো বই পড়তে পড়তে অগোছালো ভাবে ঘুমিয়ে গেলে সে ঠিকঠাক বালিশে মাথাটা পৌঁছে দেয়, চাদরটা গায়ে তুলে দেয়। আমি ঘুমের ঘোরেই তার হাতের স্পর্শ টের পাই, নিশ্বাস এসে কানে সুড়সুড়ি দেয়।
তারপর ঠিক রাত তিনটায়, সেই রাতের দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে। আমার স্পষ্ট মনে আছে সে রাতের ঝড়টা শুরু হয়েছিল ঠিক তিনটায়, পরে জেনেছি সেদিনের ইত্তেফাকের ৪ নম্বর পাতার প্রথম কলামে।
হাতড়ে চশমাটা ঠিক ত্রিপয়ার উপর পাই, অথচ ঘুমাবার সময় আমি পাশের বালিশের উপর রেখেছিলাম ওটাকে, জলের গ্লাসটাও ঠিকঠাক শুণ্য।
আজকাল আমি অনেকটা দ্রুত শুয়ে পড়ি, যদি তারে আরেকটু কাছে পাই! -
অভিজ্ঞতা অনাবশ্যক
জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অভিজ্ঞতা অনাবশ্যক।
স্বনামধন্য নয় এমন একজন চালচুলোহীন বেকার যুবকের জন্য ভাল মনওয়ালা একজন প্রেমিকা দরকার।* বেতন আলোচনা সাপেক্ষ। -
সুনামগঞ্জী দামান
আশা আছিল মনোর মাজো,
বিয়া খরতাম সুনামগঞ্জো,
অইতাম গর জামাই…
বউয়ে খালি দিবো খুটা,
আমি বুলে তাইর বাফোর টেখায় খাই…মন খারাফ করি আমি,
যখন রইমু বইয়া,
হাসি হাসি মুখে হালি,
খইবো গালাত বইয়া,
হুনো দুলা ভাই…
হারাদিন তুমি খই আছলায়,
বিয়ানতোনে মুখো কিচ্চু,
দিছে না আফায়… -
রবি – নজরুল
তুমি যখন রবীন্দ্রনাথ
আমি নজরুল,
তোমার যখন সবই সঠিক
আমার সবই ভুল।
আমি যখন কালোয় ডুবি
তোমার প্রিয় সাদা,
তার পরেও আরো আছেন
তোমার পিসতুতো দাদা।
আমি যখন হুমায়ুন
তুমি সুনীল,
আমার চোখে হলুদ সর্ষে
তোমার আকাশ নীল।
আমি যখন শুভ্র
তুমি হিমুর পাগল,
তুমি যখন সুস্থ
আমার মাথায় গন্ডগোল।
তোমার যখন প্রিয় জরি
আমি তখন রুপা,
আমি যখন শান্ত-শিষ্ঠ
তুমি তখন ক্ষ্যাপা।
আমি যখন নীলগীরি
তুমি দার্জিলিং,
তুমি যখন কই আর পুটি
আমি শোল আর শিং।
তোমার যখন চিকেন প্রিয়
আমার প্রিয় মাটন,
আমার যখন মশলা প্রিয়
তোমার প্রিয় মাখন।
আমার যখন কফি প্রিয়
তোমার প্রিয় চা,
যাতে তোমার সম্মতি
তাতেই আমার না।
এতো কিছুর পরেও কেন
তোমার কাছে আসি?
গোপন কথা, জানো না প্রিয়ে
যা কিছু তোমার প্রিয় সবই ভালবাসি।