Category: অন্য প্রেমের গান

  • ভালোবাসি ভালোবাসি

    তোমাকে একদিন আপনি
    করে ডাকবো, তুমি কি খুব
    রেগে যাবে সখি?
    রেগে গিয়ে আমার গায়ে
    বালিশ ছুঁড়ে মারবে কি?

    হাতের দামী ফোন,
    অথবা তোমার চুল-
    আঁচড়াবার নিরীহ চিরুনী?
    নাকি আমার লম্বা চুল টেনে
    কানের কাছে মুখ নিয়ে বলবে-
    যে নামেই ডাকো আমায়
    ভালোবাসি সে নামই।

    #সখি #ভালোবাসি #এলোমেলোকথোপকথন

  • আঁতুর ঘর

    ইনবক্স নোটিফিকেশনে লাল রঙ্গে ১ লেখা দেখে ক্লিক করলো মালিহা, চাঁদ রাতে যেন পূর্ণিমার আলো ছড়ালো তার মনে।
    জয় সুন্দর একটা স্টিকার পাঠিয়েছে, তাতে লেখা “আই লাভ ইউ”…

    খুশিতে আত্মহারা হয়ে কতক্ষন লাফালাফির পর নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে রিপ্লাই দিল-
    ” কী বলছো এসব! আমি কল্পনায়ও ভাবি নি।”

    জয়ের ধারনা ছিল মালিহা রিজেক্ট করবে, আরও খারাপ কিছু বলবে ভেবে রেখেছিল। তাই পূর্ব পরিকল্পিত “ঈদ মোবারক” লেখা স্টিকারটি পাঠিয়ে বলল ” স্যরি, ভুলে আগের স্টিকারটা চলে গেছে।”

    আঁতুর ঘরেই মৃত্যু হলো একটি মধুর প্রেম কাহিনীর।

  • প্রকৃতি ও অনিয়মের গল্প

    আকাশটা ঘোলাটে লাগছে বেশ, বোধহয় বৃষ্টি হবে।
    এ বসন্তে বৃষ্টি হবে ভাবতে কেমন যেন লাগছে!

    বসন্তে বৃষ্টি মানেই প্রকৃতির অনিয়ম, প্রকৃতি যখন অনিয়ম করে তখন তা খুব ভয়ঙ্কর হয়।

    তাই মনে খুব ভয় হচ্ছে, আমার দুঃশ্চিন্তিত চেহারা দেখে ঝর্ণা ভয় পেয়ে ডান বাহুটা আলতো করে জড়িয়ে ধরে বললঃ কি হলো জান? হঠাৎ এমন দুঃশ্চিন্তিত লাগছে কেন তোমাকে?

    আমি বললামঃ কেমন যেন বর্ষা বর্ষা লাগছে না? বসন্তে বর্ষা খুব খারাপ।

    হঠাৎ করেই ঝর্ণা আমার হাত ছিটকে দিয়ে বললঃ আমি এইটুকুই জানতে চেয়েছিলাম, বর্ষাপুর সাথে তোমার কী রিলেশন শুনি?

    উনি তোমার সব ব্যপারে নাক গলান কেন? আর তুমিই বা তাতে বাঁধা দাও না কেন? কই? কি হলো? উত্তর দাও!

    ঝর্ণা বলেই যাচ্ছে আর বলেই যাচ্ছে… আমার কানে তা যেন প্রবেশ করছে নাম আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছি…

    “বসন্তে বর্ষা খুব ভয়ঙ্কর…”

  • একটা সন্ধ্যা চাই

    প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে যখন ডিএমপিআই এর সামনের রাস্তা দিয়ে রিক্সায় চড়ে আসি, তখন নিম গাছগুলোর নিচে জুটি বাঁধা প্রেমিক-প্রেমিকাদের চটপটি খাওয়া দেখে সত্যিই হিংসা হয়।

    সখি, এসো একটা সন্ধ্যা প্রেম করি,
    তারপর না হয় ভুলেই গেলে!

  • আজ শুভ্রর বিয়ে

    আজ শুভ্রর বিয়ে…

    আমি হুমায়ুন আহমেদকে অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করতে চাই না, তাই গল্পটা এখানেই শেষ।

    এবং হুমায়ুনের গল্পের মতো কোন রেল স্টেশনে না হয়ে দরিদ্র পিতার সেই ছোট্র ঘরটিকেই বানানো হয়েছে বাসর ঘর, সেই ঘরেই জরী অপেক্ষা করছে এক জনমের সাধনার সেই বাসরের।

  • শুভেচ্ছা চায়ের পাতায় আর ঠোঁট রাঙ্গা পানে।

    শুভেচ্ছা রইল সখি আগাম শুভ জন্ম দিনে,
    জগত আবার মেতে উঠুক নব দিনের গানে।

    সখি, গার্দার জলে ভেসে যাক তোমার দুঃখ-ব্যথা যত,
    শুণ্যে মিলাক তোমার হৃদয়ে জমে থাকা সব ক্ষত।

    সুখের পায়রা উড়ে বেড়াক তোমার ডানে-বাঁয়ে,
    আবার তোমার সকাল হোক গরম গরম চায়ে।

    সখি, ভালবাসার কঙ্কন জড়িয়ে থাক তোমার লম্বা আঙ্গুল,
    জগতের সকল যুদ্ধ থামুক, থাকুক তোমাতেই মশগুল।

    শুভেচ্ছা রইল সখি আগাম শুভ জন্ম দিনে,
    শুভেচ্ছা চায়ের পাতায় আর ঠোঁট রাঙ্গা পানে।

    সখি, পিয়াইন নদীর জলে ভাসিয়ে দিলাম শুভেচ্ছার এ নাও,
    পৃথিবীতে যত সুখী মানুষ, তার এক তুমি হও।

  • বিশ্ব শান্তি

    একদিন তুমি আমায় ঘুম পাড়াবে
    ঘুমোবো আমি নিভৃতে,
    বুকের পরে রাখবে মাথা
    বিশ্ব শান্তি তৃপ্তিতে।
    আজকে আমার ঘুম হয়না
    তুমি যে নেই দৃষ্টিতে,
    একদিন; বুকের পরে রাখবে মাথা
    বিশ্ব শান্তি তৃপ্তিতে।
    একদিন আমি রাত্রি জাগবো
    তোমার মুখটিই দেখিতে,
    বুকের পরে রাখবে মাথা
    বিশ্ব শান্তি তৃপ্তিতে।
    আজকে আমি চমকে উঠি
    তোমার মুখটি স্বপ্নেতে,
    একদিন; বুকের পরে রাখবে মাথা
    বিশ্ব শান্তি তৃপ্তিতে।

  • বিরহের গল্প

    বাতি নিভিয়া যাইবার পূর্বে দপদপ করিয়া কয়েকবার স্ফুলিঙ্গ ছড়াইবার ন্যায় মেয়েটা বার কয়েক ফিরিয়া তাকাইলো… অতপর দু’জনের ভিন্ন পথে গমনের সহিত শেষ হইল একখানা বিরহের গল্প।

  • ফেরিওয়ালা

    ভাবছি একটা দোকান দেবো…
    আরে নাহ, হেলাল হাফিজের মত কষ্ট বিক্রী করতে কষ্ট কোথায় পাবো?
    আমি কবিতার ভাঙ্গারী দোকান দেবো…

    ঝুড়িসহ তোমার দরজায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করবো-
    “আছে ভাঙ্গাচুড়া মন, পুরোনো কষ্ট, থেতলানো হৃদয়….?”

    প্রথমে ভিতর থেকে হেঁকে উঠলেও বারবার একই শব্দে বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে
    তুমি তোমার পুরোনো কষ্টগুলো ছুঁড়ে দেবে আমার ভাঙ্গারীর ঝুড়িতে…

    বিনিময়ে আমি তোমাকে দেবো নতুন একটা কবিতা…
    তোমার দেয়া কষ্টের বিপরীতে কবিতাখানি কম মূল্যবান…
    এই অভিযোগে তুমি বলবে-
    “না থাক, বিক্রী করবো না।”

    আমিও তল্পিতল্পা গোছানোর সময় বলবো-
    “ঠিক আছে আরও দুটো লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বলবে-
    “দুই লাইন না, যদি ছয় লাইন হয় তবে চলে”
    আমি আশাহত হয়ে গোছানো শেষ করে যখন ফিরবো
    তখন আবার বলবো-
    “তোমারও কথা থাক, আমারটাও…
    দুই লাইন আর ছয় লাইনের মাঝামাঝি চার লাইন দিচ্ছি”

    তুমি বিক্রী করতে রাজী হলে, আমি খুশি মনে ফিরে আসার সময় পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখবো
    তোমার চোখে এখনো লোকসানের কষ্ট…

  • তোমায় ভালবাসবো বলেই

    আমরা একটা চায়ের দোকানে আড্ডা দিতাম, দোকানের বাম পাশের বাড়ীটার ছাদে একটা মেয়ে ঘুরঘুর করতো।

    প্রেমে পড়তে চাই টাইপের এক্টিভিটিস, মোটামুটি সব যুবকেরই মনযোগ আকর্ষক।

    এর বহু দিন পর রাস্তায় একটা মেয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে বললো “ওটা আমার কাজিন, আপুর দিকে তো নজর যায় ঠিকই, ডান পাশের বিল্ডিং এর ছাদে যে আমি আপনার দিকে তাকিয়ে থাকি সে দিকে নজর যায় না?”

    আমি ঝটপট উত্তর দিলাম “আমি তো জানি ওটা তোমার আপু, তাই তো বড় আপু হিসেবে তাকাই।”

    তার বহুদিন পর আমি বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছি, মনি একটা বালিশ কোলে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার হাতটা ওর মাথার উপর টেনে নিয়ে বলল “সত্যি করে বলো তো, তুমি আপুর দিকে তাকাতে না?”

    আমি নির্দ্বিধায় বললাম “আমি তোমায় ভালবাসবো বলেই মানুষ হয়ে জন্মেছিলাম।”